নির্দেশনা মানলেন না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা!

প্রকাশ:| শনিবার, ১৫ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ

নির্দেশ মানলেন না
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
১৫ আগষ্ট শনিবার জাতীয় শোক দিবসের দিন পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১৫ আগষ্ট সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টা বিনামূল্যে সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া জন্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ১১ আগষ্ট সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি জরুরী আদেশ জারী করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল শাখা-০৩ এর উপ-সচিব আল মামুন মুর্শেদ স্বাক্ষরিত ওই পত্রে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্র্দেশনা দেওয়া হয়। সংক্রান্ত পত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে ফ্যাক্সযোগে প্রেরণ করা হয়। যার স্মারক নং ৩২৫।

কিন্তু শনিবার ১৫ আগষ্ট সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কক্সবাজারের পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন অবস্থান করে দেখা গেছে, হাসপাতালে কর্মরত সব চিকিৎসকই অনুপস্থিত। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে আসেন ডা: নুরুল আলম। এরপর সকাল ১১টা ১৮মিনিটে হাসপাতালে আসেন ডা: মো. সাইফুল আরিফ। এসময় তাকে বিলম্বে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন ধরনের সদুত্তর দিতে পারেনি। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আর কোন চিকিৎসকের দেখা মিলেনি পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

খোদ পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডা: মুজিবুর রহমানও সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে আসেনি। এসময় তিনি পেকুয়া বাজারস্থ তার ব্যক্তিগত চেম্বার নুর ডায়গনষ্টিক সেন্টারে রোগী দেখাশুনা করছিলেন। এছাড়াও হাসাপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা: সোহেল ছিদ্দিকী, ডা: রানা চৌধুরী, ডা: মুনির উল্লাহ, ডেন্টাল চিকিৎসক ডা: মো. মহি উদ্দিন, ডা: রশ্মি করও জাতীয় শোক দিবসের দিন নির্দিষ্ট কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রাণলয়ের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে জানতে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডা: মুজিবুর রহমানের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসের দিন হাসপাতালে সব চিকিৎসকদের উপস্থিত থাকতে হবে এমন নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পাইনি। কয়েকজন চিকিৎসক তো হাসপাতালের আউটডোরে শোক দিবসের দিন রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন। নিজের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে আর কোন ধরনের কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো. কমর উদ্দিন জানান, তিনি ছুটিতে আসেন। পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় শোক দিবসের দিন বিনামূল্যে ৪ ঘন্টা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর ব্যতয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই তদন্ত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরোও সংবাদ