নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ‍অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ‍অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে আপনারা কোনোদিন ভোটের অধিকার পাবেন না। আওয়ামী লীগ আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া
তিনি বলেছেন, ‘দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার নেই। তারা অবৈধ। এরা নির্বাচিত সরকার নয়। নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ পরিচালনা করার অধিকার তাদের নেই। অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে।

নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে ২০ দলীয় জোটের আয়োজিত জনসভায় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এর আগে নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এ জনসভায় জোটের স্থানীয় ও জাতীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুল আরেফিন চৌধুরী।

বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়। প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে।’
বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘অথর্ব’ আখ্যা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এ কমিশনকে দিয়ে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। এ কমিশন বাতিল করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠন করতে হবে, যারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। পুলিশ প্রশাসনকেও নিরপেক্ষ না করলে কোনো দিন ভোটের অধিকার ফিরে পাবে না জনগণ।’

বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‌’এই অবৈধ সরকার মিথ্যার উপর ভর করে টিকে আছে। তাদের সঙ্গে জনগণ নেই। জনগণ আছে বিএনপির সঙ্গে।’
‘ভোটকেন্দ্রে মানুষ না থেকে কুকুর বসে থাকে, তারা আবার জনপ্রতিনিধি হয় কীভাবে’ এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এ অবৈধ সরকার নতুন নতুন আইন করছে। সম্প্রচার নীতিমালা করছে। নির্বাচিত না হয়ে কোনো আইন করা যায় না। জনবিচ্ছিন্ন হয়েই সরকার নতুন নতুন আইন করছে।’

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন নাই, গণতন্ত্র নাই, মানবাধিকার নাই। এ নির্যাতন অত্যাচার আর চলতে পারে না, হতে দেওয়া যায় না। শেখ হাসিনাকে ‘স্বঘোষিত বেইমান’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবার যে বেইমানি করে, বারবার সে বেইমানি করে।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা আন্দোলন করেছেন। সারাদেশের মানুষ আন্দোলন করেছে। কিন্তু ঢাকা আন্দোলন করতে পারেনি। এবার ঢাকাও আন্দোলন করবে, আপনারাও আন্দোলন করবেন। এখন নয়, সময়মতো আন্দোলনের ডাক দেব।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে। তারা র‌্যাব-পুলিশকে রক্ষীবাহিনী বানিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। রক্ষীবাহিনী দিয়ে তারা ৩০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল।’

পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনার জনগণের সেবক। কিন্তু সরকারের নির্দেশে জনগণের ওপর গুলি চালান। তাই পুলিশ ভাইদের বলবো জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আপনার গুলি চালাবেন না।’
তিনি সরকারের উদ্দেশে করে বলেন, ‘র‌্যাবকে কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহারের জন্য গঠন করা হয়নি। কিন্তু সরকার দেশে বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে র‌্যাবকে ব্যবহার করছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত র‌্যাব টাকার বিনিময়ে মানুষকে গুম ও খুন করছে।’

নীলফামারী শহরের বড় মাঠে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি নীলফামারীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নিহত ৮জন শহীদ নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য শুরু করেন।

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটার বিহীন নির্বাচন আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘ওই নির্বাচনে আপনারা ভোট দিয়েছেন? ভোট দেননি ! আওয়ামী লীগের অধীনে কোন দিন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। আর হবেও না। এমনকি আপনারা দেখেছেন উপজেলা নির্বাচনে ভোটের বাক্সে আগে থেকে ভোট দিয়ে ভর্তি করে রাখা হয়েছে।’

প্রচণ্ড দাবদাহে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় আসা দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সারাদিনই প্রচণ্ড দাবদাহ থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নীলফামারী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল মজিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে জানান, জনসভাস্থলে আসা নেতাকর্মীদের অনেকেই পানি শুন্যতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য শুরু করলেও নসমুদ্র পরিণত হয় নীলফামারী শহর, জনসভাস্থলে আসতে পারেননি হাজার হাজার মানুষ। জনসভাস্থলের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে থেকেই তাদের শুনতে হয়েছে খালেদার বক্তব্য।

বক্তব্যের শুরুতেই জোটনেত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী গুম-খুন-নির্যাতন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে হটিয়ে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ অবৈধ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তাদের উপর দেশের জনগণের কোনো আস্থা নেই। সুষ্ঠু ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পাবে এটাই আমাদের চাওয়া।’

এদিকে, প্রিয় নেত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা ছুটে আসতে থাকেন। শুধু তাই নয় ভোর থেকেই নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার নারী-পুরুষ জনসভাস্থলে জড়ো হয়। বেলা ১২টার মধ্যেই জনসমুদ্র পরিণত হয় নীলফামারী শহর।


আরোও সংবাদ