নিরাপদ বিনিয়োগের দেশ বাংলাদেশ-মোস্তফা কামাল

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৭ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

নিরাপদ বিনিয়োগের দেশ বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-ভিউতে আয়োজিত ‘বন্দর-কাস্টম্স-জ্বালানী ও অবকাঠামগত সক্ষমতা অর্জন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর জন্য রোল মডেল। জাতিসংঘ মহাসচিব থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সবাই পৃথিবীকে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে বলছে, কিভাবে ঘুড়ে দাড়াতে হয় তা শিখতে বলছে বাংলাদেশকে দেখে।’
মোস্তফা কামাল
বিদেশি বিনিয়োগকারিদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশ হল সব সম্ভবের দেশ। তাই এখানে বিনিয়োগ করে করে কেউ ঠকবেননা। আপনাদের কি প্রয়োজন অনুগ্রহ করে আমাদের জানান, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিতে রাজি আছি। বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতে শিখুন।’

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের জন্য পৃথিবী বাংলাদেশকে চিনতে পেরেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দেশ। আমি নিজে ভিয়েতনাম ও দক্ষিন কোরিয়ায় ব্যাবসায় শেয়ার দিয়ে লোকশান গুনেছি, কিন্তু বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষরা অনেক পরিশ্রমী। তাদেরকে দিয়ে সব সম্ভব।’

এসময় মন্ত্রী তৈরি পোষাক খাতের মালিকদের সোলার এনার্জির বিষয়টি নিয়ে এখন থেকে ভাবতে পরামর্শ দেন। ডিজেলের দাম আরো কমানো যায় কিনা বা পোশাক মালিকরা যাতে শুল্কমুক্ত ডিজেল আমদানি করতে পারে সে বিষয়ে তিনি কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর জন্য পায়রা বন্দরের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ বন্দরকে ঘিরে অনেক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। নেদারল্যান্ড-জার্মান-চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পায়রা বন্দরে বিনিয়োগ করার আশা পোষণ করেছে। পায়রাতে ১৪ দশমিক ৫ মিটারের জাহাজও প্রবেশ করতে পারবে, যা গভীর সমুদ্র বন্দরের চাহিদা অনেক খানি পূরণ করবে। ২০১৮ সালের মধ্যে আরো এক কিলোমিটার জেটি নির্মাণ শেষ হবে। চার দলীয় জোট আমলে লোকশানে থাকা মংলা বন্দরও লাভের মুখ দেখেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলেও, মামলা শেষ হওয়ায় এটি নিয়েও আশার আলো দেখা দিচ্ছে। ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং করা যাচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের কারনে বর্তমানে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৮৬। আশা করছি অতি শিগগিরই ব্যবসায়ী বন্ধুরা তিনটি বন্দরই ব্যবহার করতে পারবেন।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন বিআইডিএস এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড.নাজনীন আহমেদ। তিনি প্রবন্ধে তৈরী পোষাক খাতের জন্য প্রণিত লক্ষমাত্রা অর্জনে চট্টগ্রামের অংশগ্রহণ কেমন হওয়া উচিত এবং তার জন্য কি কি সংস্কার প্রয়োজন তা তুলে ধরেন।

২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নিত করার রোডম্যাপ প্রদর্শন করেন মেলবোর্ন আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরীফ আছ-সাবের। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে ইতিবাচক অপেক্ষা নেতিবাচক আলোচনা বেশি হয়। তাই বর্হি বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ধারনা তৈরিতে বিজেএমইএ ও সরকারকে কাজ করতে হবে।’

বিজিএমইএ’র সাবেক সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আইএলও’র কান্ট্রি ডাইরেক্টর শ্রীনিবাস বি রেডডি, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ, বিজিএমইএ’র সাবেক সহ সভাপতি ফারুক হাসান।