‘নিরাপত্তা দিতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন’

প্রকাশ:| রবিবার, ৮ মার্চ , ২০১৫ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আর্মি, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব সব আপনার হাতে। তাই মানুষকে যদি নিরাপত্তা দিতে না পারেন তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। দেশের চলমান সঙ্কটে শান্তির দাবিতে ফুটপাতে অবস্থানে ৪০তম দিন আজ বিকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, পেট্রলবোমা যেই মারুক, তা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব আপনার। সবকিছু যদি খালেদা জিয়াই করতে পারে তবে আপনি প্রধানমন্ত্রী আছেন কেন? তিনি বলেন, আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে হত্যা করতে পারবেন, কিন্তু নত করাতে পারবেন না। ৪০ দিন যাবত রাস্তায় আছি, প্রয়োজনে আরও ৪০ দিন থাকবো। প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নয় মাস যুদ্ধ শেষে পরাজিত পাকিস্তানীদের সাথেও যদি আমরা আলোচনা করতে পারি, তাহলে আপনি কেন আলোচনা করতে পারবেন না?
আমাকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের খবর আপনি জানেন না বলেই আপনি আমাকে চেনেন না। আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু আমাকে চিনতেন। বঙ্গবন্ধুর পদতলে এক লক্ষ চার হাজার অস্ত্র দিয়েছিলাম, যে অস্ত্র টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা আনতে তিন মাস সময় লেগেছিল। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, আপনার পিতার হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে আবারও অনুরোধ করছি আলোচনা করুন। শান্তির জন্য আলোচনায় কোন পরাজয় নাই। দলমত নির্বিশেষে সকলকে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন দেশে শান্তি না আসবে ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতের অবস্থানস্থলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, বঙ্গবীরের সহধর্মিনী নাসরিন সিদ্দিকী, যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, আইন সম্পাদক এডভোকেট মাহবুব হাসান রানাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, গত ২৮শে জানুয়ারী থেকে কাদের সিদ্দিকী দেশের চলমান সঙ্কট উত্তরণে প্রধান দুই দলের দুই নেত্রীকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে রাতদিন অবস্থান করে আসছেন। দুটি দাবি নিয়ে তিনি এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর একটি হলো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আলোচনা বসতে এবং অন্যটি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করতে।