নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ জুলাই , ২০১৩ সময় ১১:০২ অপরাহ্ণ

মাসুদ নাসির,রাঙ্গুনিয়া,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।
আশংকা করে ছিল রমজানে মানুষ বিদ্র্যুৎ পাবে কিনা। সেহরী ইফতার তারাবীতে বিদ্যুৎ থাকবে কিনা। মানুষের সেসব বিদ্যুৎ চিন্তা দুর করে দিয়ে রমজানের শুরু থেকে রাঙ্গুনিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রত্যন্ত এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এ এলাকার মানুষ সার্বিক ভাবে স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে। এলাকায মানুষের মাঝে বিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করতে দেখা যায়না। রমজান মাসে পযার্প্ত বিদ্যুৎ থাকায় এলাকার সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে। এলাকায় এ পর্যন্ত কোন অপ্রিতিকর ঘটনা হয়নি। রোজাদাররা শান্তিতে সেহেরী ইফতার তারাবী আদায় করতে পারছে। উপজেলার নানা বিপনী বিতান গুলুতে শুরু হয়েছে জমজমাট ঈদের কেনা কাটা। তাতেও বিদ্যুৎ সন্তুুষ জনক অবস্থায় পেয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ঈদের লক্ষমাত্রা নিয়ে ব্যবসা করছে । বিদ্যুৎ থাকায় বিপনী বিতানগুলোতে অতীতের সব রেকড ভঙ্গ করে রমজানের প্রথম থেকে মার্কেট গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লেগেই রয়েছে। মার্কেট গুলোতে বিক্রেতার পাশাপাশি ক্রেতারাও সন্তুুষ প্রকাশ করছে কেনা কটার সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকাতে।
রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে। প্রথম রমজান থেকে ১৫ মেগাওয়াট চাহিদার অনুকুলে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় গ্রীড থেকে। ৩৩ কেভি লাইন থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ৫টি ফিডারের মার্ধমে রাঙ্গুনিয়ায় বিতরণ করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদৃ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছেন।
রাঙ্গুনিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হারুন সওদাগর জানান, রমজানের শুরুতে আমরা বিদ্যুৎ নিয়ে নানা টেনশনে ছিলাম। আমাদের ধারণা ভুল প্রমানিত করে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। বিদ্যুৎ থাকায় ক্রেতারা গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে ছুটে আসে তাদের পছন্দের জিনিষটি কেনার জন্য। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ এর কারণে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের মাঝে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। সারাক্ষন বিদ্যুৎ থাকায় এবারে ব্যবসাীয়দের ঈদ বিক্রির লক্ষমাত্রা অর্জন হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ জানান, বিদ্যুৎ এর বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। বাজারে সারাক্ষন বিদ্যুৎ থাকায় রমজানের প্রথম থেকে ক্রেতাদের বাজার মূখি করেছে।
রোয়জারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মাহফুজ চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ এখন আসে, আর যায়না। এতে সবার মাঝে স্বস্তি আনন্দ লক্ষ করা যায় বিপনী বিতান গুলোতে যখন উপচে পড়া ক্রেতাদের ভিড়ে চেহারায় স্বস্তির হাসি দেখা যায়।
লিচুবাগানের মুদি ব্যবসায়ী জিলানী ষ্টোরের পরিচালক মো. আনোয়ার জানান, সারাক্ষন বিদ্যুৎ থাকাতে ক্রেতারা স্বস্তীতে মুদি দোকানে তাদের প্রয়োজনীয় মালামাল নিবিঘেœ কিনতে পারছে।
রাঙ্গুনিয়া পাটান পাড়া গ্রামের গৃহিনী মাহফুজা রহমান সূর্বণা জানান, রমজানে মহিলাদের সারাক্ষন চুলায় থাকতে হয়। সারাক্ষন বিদ্যুৎ থাকায় আমাদের সব কষ্ট গুলো নিমিষেই দুর হয়ে যায়।
রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী মো হুমায়ন কবির জানান , আমাদের চাহিদার অনুযায়ী ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ায় আমরা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সরবরাহ দিতে পারছি। এর সব কৃতিত্ব মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের । মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ ক্রমে আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আজম সিদ্দিকী জানান, আমরা রাঙ্গুনিয়াবাসী খুবই ভাগ্যবান আমাদের এখানে যে পরিমান বিদ্যুৎ পাওয়া যায় দেশের কোন স্থানে তা আশা করা যায়না। পরিবেশ ও মন্ত্রীর এলাকা হিসেবে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার কারনে আমাদের সব ক্ষেত্রে অভুতপুর্ব উন্নতি হচ্ছে।