নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণে জাগছে বিশাল চর

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১১:৪০ অপরাহ্ণ

বিশাল চরমেঘনা বেষ্টিত হাতিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন একটি জেলার আয়তনের সমান। হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিণ ও পূর্বে বিশাল আয়তনের ভূমি জাগছে। উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজেলার আয়তন দেশের ২১টি জেলার আয়তনের চাইতে বড়, বিশ্বের ১৪টি দেশের আয়তনের চেয়ে বড় এবং সিঙ্গাপুরের আয়তনের তিনগুণ বেশী। হাতিয়া মূল ভূখ- ছাড়াও এর চতুর্দিকে ছোটবড় মিলিয়ে বর্তমানে ৫০টি চর জেড়ে উঠেছে। এগুলোর ১০টিতে জনসাধারণের বসবাস ও চাষাবাদ চলছে। অপরদিকে হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিণ ও পূর্বদিকে যে পরিমাণ ভূমি জাগছে তাতে করে আগামী দেড় দশকে আরো একটি জেলার আয়তনের সমান জেগে উঠার সম্ভবনা রয়েছে। হাতিয়া জাহাজমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে মেঘনা বেষ্টিত নিঝুমদ্বীপ ভ্রমণ বিলাসীদের জন্য দর্শনীয় স্থান। দেশ-বিদেশে এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এছাড়া নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে মেঘনা বেষ্টিত ত্রিশ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দমার চর নামক চরটিতে বর্তমানে কুড়ি হাজার অধিবাসীর বসবাস। নিঝুমদ্বীপ ও দমার চরের মধ্যবর্তী এলাকাসহ দক্ষিণ ও পূর্বদিকে মেঘনার বুকচিরে বিশাল আয়তনের চর জাগছে।জাহাজমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিমে বিগত ষাটের দশকে মেঘনার বুক চিরে এক খ- ভূমি জেগে ওঠে। ১৯৬৫ সাল থেকে হাতিয়া মূলভূখ- থেকে কিছু অধিবাসী উক্ত চরে শস্য মৌসুমে চাষাবাদ শুরু করে। তখন উক্ত চরের নাম ছিল বালুয়ার চর। পরবর্তীতে কমলার চর থেকে বর্তমানে এটি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭০ দশকের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে চরটির দুই শতাধিক কৃষক নিহত হয়। এদের মধ্যে ভাগ্যক্রমে মাত্র একজন প্রাণে রক্ষা পান। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে জোয়ার কম থাকায় বিশাল এলাকায় ডুবোচর দেখা যায়। জানা গেছে, জাহাজমারা চ্যানেল অতিক্রম করে দক্ষিণে অন্তত একশ’ কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করার সময় পানির গভীরতা কোথাও কোথাও ৫/৬ মিটার আবার কোথাও কোথাও ৮/১০ মিটারের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। একশ’ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সময় পানির গভীরতা ১০/১২ মিটার দেখা গেছে। অর্থাৎ দক্ষিণ ও পূর্বদিকে সাগরে ক্রমান্বয়ে পলিমাটি ভরাট হচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত ছবিতে দেখা গেছে নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্বপাশে সাগর ক্রমান্বয়ে সাদা পলিমাটিতে ভরে যাচ্ছে। আগামী ৪/৫ বছরে এ বিশাল এলাকা ডুবোচর জেগে ওঠার পাশাপাশি এক দশকের মধ্যে জনবসতি গড়ে উঠবে।উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের সংঘঠিত ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সময় সাগর থেকে জোয়ারের সাথে কোটি কোটি টন পলিমাটি এসে এখানকার নদনদী ভরাট করে। এতে বেশ কয়েকটি চরাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে হাতিয়ার হরনী ইউনিয়ন, চানন্দী ইউনিয়ন, টেঙ্গারচর, সূর্যমুখী খালের পূর্বাংশ, দমারচর উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের সাথে কোটি কোটি টন পলিমাটি দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে এসে থাকে। এতে করে ৪/৫ বছরের মধ্যে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠছে। জানা গেছে, মেঘনা বেষ্টিত হাতিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন দেশের ২১ জেলার আয়তনের চেয়েও বড়। অপরদিকে নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্বদিকে যেহারে চর জাগছে তাতে করে আগামী দেড় দশকে আরো একটি জেলার আয়তনের সমান আরো ভূমি জেগে উঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা


আরোও সংবাদ