নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির টাকা গ্রহণ করেন-রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৩:২৫ অপরাহ্ণ

রুহুল কবির রিজভীবিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ও তার নিজ দলের সিনিয়র নেতারাও অভিযোগ করেছেন নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির টাকা গ্রহণ করেন। নিজের চাঁদাবাজি, দুর্নীতির কালিমা ঢাকতে রাষ্ট্রক্ষমতার সব শক্তিকে ব্যবহার করছেন। বিরোধীদলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ইর্ষাপরায়ণ ও কলহপ্রিয় নারীর অন্ধহিংসা চরিতার্থ করারই নামান্তর।

আজ শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

‘সাজার ভয়ে খালেদা জিয়া আদালতে যান না’ গত বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচলা করে তিনি বলেন, সাজা হবে কি হবে না তা প্রধানমন্ত্রী জানেন কী করে? প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আবারো প্রমাণিত হয়েছে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কম্পিউটারে টাইপ করা হয়।

‘নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে’ বৃহস্পতিবার লোড আনলোড শ্রমিকদের এক সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. নাসিমের এ বক্তব্যের সমালোচনায় রিজভী বলেন, তাদের অযৌক্তিক ও গায়ের জোরে দলীয় প্রধানের নেতৃত্বে কোনো মন্ত্রিসভা দেশের বিরোধী দলসহ কোনো শ্রেণী পেশার মানুষ মানবে না। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হলে সে মন্ত্রিসভাকে জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করে পৌরসভার আবর্জনার ভ্যানে আপলোড করে দেবে।

গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আসছেন। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চক্রান্তের অংশ হিসাবেই গ্রামীণ ব্যাংক-২০১৩ আইন প্রণয়নের এই উদ্যোগ বলে আমরা মনে করি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিজভি বলেন, সরকার এ মরণ খেলা খেলছে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে। আপনারা জানেন, এরই নির্মম শিকার হয়েছেন নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী, সাবেক কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, নিরীহ শ্রমিক বিশ্বজিৎ এবং সর্বশেষ ঘুমন্ত হেফাজতকর্মীরা। এমনকি কথিত আছে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী খুনীদের আড়াল করে রেখেছে সরকার। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, একটির বদলে ১০টি লাশ ফেলার নির্দেশ দাতা কে?

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।