নিজেদের রাঙাতে সকলের ভরসা এখন দর্জিবাড়ি

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ জুন , ২০১৭ সময় ০২:৩১ পূর্বাহ্ণ

হাতে তৈরি করে, সুতোর নকশায় পোশাক বানানোর সময় নেই কারো। ব্যস্ততায় সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে দর্জিবাড়ি। ঈদ আসলেই মনে পড়ে যায় আমার ছোটবেলার স্মৃতি। এইভাবে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি আওড়ে যাচ্ছিলেন রিফাত আরা বেগম। কাপড় বানানোর অর্ডার দিতেই নিউমার্কেটের অন্তরা’য় এসেছেন তিনি।
ঠিক তাই। আধুনিকতার ্এই সময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে হাজারগুণে। তাই তো বাহারি কাপড়ে নিজেদের রাঙাতে সকলের ভরসা এখন দর্জিবাড়ি, নয়তো বুটিক হাউসগুলো। বুটিক হাউসের পোশাকের চেয়ে অনেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বানানো পোশাকে। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বানিয়ে নিতে চান পছন্দের পোশাক। তাই তো ঈদেও ঢের বাকি থাকলেও ঈদ কেনাকেটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। শুরু হয়ে গেছে দর্জিবাড়িতে আনাগোনা। যেহেতু উৎসবটা ঈদ। তাই পোশাক বানানোর ধুমটাও দ্বিগুণ। তাই পছন্দেও পোশাক পেতে এখনি যেতে হবে দর্জিবাড়িতে।
ইতিমধ্যে ঈদের কাজ শুরু হয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন দর্জির দোকানে। নিউ মার্কেট, সেন্ট্রাল প্লাজা, মিমি, চকবাজারের মতো জায়গা ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। এখন থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আর কিছুদিন পরই নিঘুর্ম রাত সঙ্গী হবে সেলাই মাস্টারদের। নিউ মার্কেটের অন্তরার সেলাই মাস্টার সুজিত দাশ। এখানে কাজ করছেন প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে। জানালেন, ঈদ আনন্দ শুরু হয়ে গেছে সবখানে। কাপড়ের দোকানগুলোতে যেমন ভিড়, ঠিক তেমনি দর্জিবাড়িগুলোছেও আনাগোনা বেড়েছে। তবে এই ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে দু’সপ্তাহ আগে থেকেই। দিন দিন মানুষের ভিড় বাড়ছে। তেমনি মিমি সুপারের দর্জিরা বলেন, ঈদের কাজের অর্ডার আসতে শুরু করেছে শবেবরাতের কয়েকদিন আগে থেকেই। এখন কাজের চাপ শুধু বাড়বেই। তিনি আরও বলেন, খুব বেশি চাপ থাকলে কাজের ফিনিশিং একটু হেরফের হতে পারে। তাই ২০ রোজার পর কাস্টমারদেরও উচিত না আসা।
পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। নিজেদের পছন্দের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি বানিয়ে নিতে দর্জিবাড়িতে ছুটছে ছেলেরা। নগরীর টেরি বাজারে একসাথে রয়েছে অনেকগুলো দর্জিবাড়ি। এছাড়া মিমি সুপার, নিউ মার্কেট, আগ্রাবাদেও বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সের দর্জিবাড়িগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে সমানতালে। শার্ট-প্যান্টের

জন্য বেছে নিতে পারেন এমন টেইলার্স যেখান থেকে কাপড়ও কিনতে পারবেন। ইচ্ছামতো বানাতে চাইলে মাপ নেওয়ার সময় দর্জির ওপর ছেড়ে না দিয়ে নিজের পছন্দের কথা খুলে বলতে হবে। আপনাকেই বুঝিয়ে দিতে হবে কী ধরনের ফিটিং চান, হাতা, কলার, কাটিং, প্যাকেট, ইয়োকসহ সব ডিজাইন আপনি কেমন চাচ্ছেন। শার্টের ডিজাইন চেঞ্জ করতে একটা ইন্টারলাইনিং অর্থাৎ বখরমই যথেষ্ট। তাই বখরম কেমন হবে, শক্ত নাকি নরম সেগুলো দর্জিকে বলে দিন। প্যান্টের কুচিতে ডিজাইনের বড় পরিবর্তন আনে। এক কুচি অথবা কুচি ছাড়াই এখন ট্রেন্ড। ছেলেরা পাঞ্জাবির জন্য বেছে নিতে পারেন সুতি, খাদিও কাপড়। সেই সাথে বাটিক বা টাইডাইয়ের কাপড়গুলিও কিনতে পারেন। পাঞ্জাবি টাইট ফিটিংয়ের না বানানোই ভালো। একটু শর্ট কাটিংয়ের কুর্তা বানাতে চাইলেও তাতে টাইট ফিটিং এড়িয়ে চলুন। দর্জি আর কাস্টমারদের সাথে কথা বলে জানা গেল এবারের পোশাকের হালচাল সর্ম্পকে।
কামিজ : হাল সময়ে কামিজের ঝুলের রেওয়াজ ৩৪ থেকে ৩৮ ইঞ্চির মধ্যে। খাটো কামিজের চাহিদাও কম নয়। মাসাককালি ও টপস ঘরানার কামিজ বানাতেও তরুণীদের আগ্রহ লক্ষণীয়। এ ছাড়া বাহারি ঘটিহাতা বা ম্যাগিহাতা আর থ্রিকোয়াটারে প্রচলন বেশি। অন্যদিকে ফুলস্লিভ ও স্লিভলেস হাতার চাহিদা রয়েছে আগের মতোই। হাতার ক্ষেত্রে মসলিন বা নেট কাপড়ের লম্বা হাতার ফ্যাশন এবারের ঈদে অনেকের গায়েই জড়িয়ে থাকবে। তবে জামার নিচের দিকটায় গোল ও চারকোণা শেপের আধিক্যও লক্ষণীয় হবে এমনটাই জানালেন সেলাই মাস্টাররা।
সালোয়ার : এবারের পছন্দেও তালিকায় রয়েছে পালাজ্জো। তবে অনেক লেয়ারের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে পালাজ্জোগুলো। এছাড়া কম কুচি, একটু ঢোলা সালোয়ারই প্রাধান্য পাচ্ছে এ সময়ের ফ্যাশন সচেতন নারীর পছন্দের তালিকায়। সালোয়ারে মুহুরির মাপ দেওয়া হচ্ছে ১০-১২ ইঞ্চি। অনেকে সাধারণ কাটে নিচে চাপা সালোয়ার পছন্দ করছে। এ ছাড়া চুড়িদার সালোয়ার ও সালোয়ারের নিচের অংশে লাইনিং কিংবা পাইপিং করার ক্ষেত্রেও অনেকের আগ্রহ রয়েছে।
গলার কাট : কামিজের ক্ষেত্রে কলারের আধিক্য রয়েছে। এর পাশাপাশি চারকোণা, ভিশেপ, গোল, বোটনেক সবই চলছে এবার। এ ছাড়া টেইলার্সগুলোতে সংগ্রহে রাখা ক্যাটালগ থেকেও আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই গলার কাটের বাহার। অন্যদিকে ব্লাউজের গলায় থাকছে রকমারি কাটের ফ্যাশন।
পোশাকে কারুকাজ : প্রিয় পোশাকে ভিন্নত আনতে এতে বসাতে পারেন চুমকি, পুতি, পুতি গ্লাস। গলায়, হাতে কিংবা কামিজের নিচের অংশে শোভা পাচ্ছে এবার লেইস ও পাড়ের ব্যবহার। এ ছাড়া ব্লক, স্প্রে, হ্যান্ডপেইন্ট করিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই ডিজাইন অনুযায়ী।
সেলাইয়ের খরচ : পোশাকের ডিজাইন-ভেদে সালোয়ার-কামিজ বানাতে খরচ পড়বে দু’শ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু কামিজ বানাতে দেড়শ টাকা থেকে তিনশ বা ডিজাইনভেদে তার চেয়ে বেশি। ১৫ রোজার পর শেষ হয়ে যাবে ফরমায়েশ নেওয়া। তাই আজই দর্জিবাড়ি গিয়ে এসব ঝামেলা শেষ করুন। ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে শার্ট ৩শ, প্যান্ট ৪শ, স্যুট ৩ হাজার টাকা, প্রিন্স স্যুট আড়াই হাজার, ব্লেজার ৩ হাজার, পায়জামা ৩শ টাকা।
দর্জিবাড়ির খোঁজখবর : নিউমার্কেট, মিমি সুপার, সেন্ট্রাল প্লাজা, লাকী প্লাজা, টেরিবাজার। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেকগুলো টেইলার্স।