নিজামীর পাঁচ জন সাফাই সাক্ষী হাজির হয়নি

প্রকাশ:| বুধবার, ২০ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্র্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে পাঁচ জন সাফাই সাক্ষীর কাউকেই হাজির করতে পারেনি আসামি পক্ষ।দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা
বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে সাফাই সাক্ষীদের হাজির করার পূর্ব নির্ধারিত দিন ছিল।
নিজামীর আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী সাফাই সাক্ষীদের হাজির করতে সমন জারি ও সময় প্রার্থনার আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, আসামি পক্ষের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় আর কোনো সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তী কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার আদালতে আসামি নিজামীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুসারে পরীক্ষা (এগজামিন) করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এরপর আদালত বিকালের মধ্যে সাফাই সাক্ষীর তালিকা জমা দিতে এবং বুধবার সাক্ষীদের হাজির করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুসারে আদালতে পাঁচ সাফাই সাক্ষীর নাম জমা দেয় আসামি পক্ষ।

এই পাঁচজন হলেন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দা আবদুল গণি ও নাসির উদ্দিন শাহ, বোয়ালিয়া এলাকার বদরুল হক, বৈরাগ এলাকার ইসমাইল তালুকদার এবং পড়ুয়া পাড়ার আবদুর রহিম।

বুধবার দুপুরে আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে নিজামীর আইনজীবী কফিল উদ্দিন আদালতের কাছে সাফাই সাক্ষীদের হাজির করতে সমন জারির আবেদন করেন।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, পাঁচ সাফাই সাক্ষীর সবাই আনোয়ারা থানার স্থায়ী বাসিন্দা। আদালতের নির্দেশই ছিল আজ তাদের হাজির করতে হবে।

“তাদের হাজির করতে না পারার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। আনোয়ারার বাসিন্দা এ মানুষগুলো সাবেক শিল্পমন্ত্রী সম্পর্কে কী বক্তব্য দেবেন?”

পিপি কামাল আদালতকে বলেন, এখন সমন জারির আবেদন ও সময় প্রার্থনা করা মানে মামলার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করা।

“শুধু হরতালের কারণে ৩২ কার্যদিবস শুনানি হয়নি। এ মামলার ফলাফল জাতি দেখতে চায়।”

এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবী কফিল উদ্দিন বলেন, “আমি আইনানুসারে সময় প্রার্থনা করছি। আমার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করাটাই উদ্দেশ্যমূলক।”

এরপর আদালত আসামি পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলে, “সাফাই সাক্ষীদের আজ হাজির করার নির্দেশ গতকাল দেয়া হয়। আপনি অন্তত একজন সাক্ষী হাজির করে বাকিদের জন্য সময় চাইতে পারতেন।”

১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় করা দুই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ও জামিনে থাকা আসামিদের মধ্যে মোট ৩৮ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুসারে পরীক্ষা করা হয়েছে।

২০০৪ সালের ১এপ্রিল মধ্যরাতে সিইউএফএলের জেটিঘাটে ১০ট্রাক অস্ত্র আটক করে পুলিশ।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীসহ নতুন আরো ১১ জনকে আসামি করা হয়।
বহুল আলোচিত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বৃহস্পতিবার।