নিখোঁজের পর শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার, আটক ২

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

সাগর মিয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি, আনোয়ারা

আনোয়ারায় নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির আধা কিলোমিটার পশ্চিমের একটি খাল থেকে সজল খান ওরফে সাগর ওরফে মিয়া (১১) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ২টার সময় লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের উত্তর বরুমচড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিলাদে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় সাগরের দুই বন্ধু মো. মুছা (১৩) ও মো. আরাফাত (১১)। রাতে মুছা ঘরে ফিরে এলেও সাগর ঘরে ফিরে না আসায় চারদিকে খোঁজ নিতে থাকে তার পরিবার। পরে বুধবার রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরী করে পরিবার। পরে রাত দুটার সময় বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে একটি খালে ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায় সাগরের।

সাগর উপজলোর উত্তর বরুমচড়ার আবদুচ ছবুরের পুত্র। তিনি মোহছেন আউলিয়া মাজারে বাবুর্চির কাজ করেন। তাঁর আট সন্তানের মধ্যে সাগর সবার ছোট। এবার সে বরুমচড়ার নলদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত মুছা নবম শ্রেণি ও আরাফাত সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। মুছার বাবা আবুল কাশেম রোহিঙ্গা। তিনি মায়ানমার থেকে এসে সেখানে ঘর করেন। আরাফাত আবদুল জলিলে পুত্র।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বছরখানেক আগে অভিযুক্ত মুছার বাবা আবুল কাশেমের সাথে নলদিয়া এলাকার জনৈক এয়াকুবের সাথে গ-গোল হয়। সে ঘটনায় কাশেমের ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর ওই ঘটনায় সাক্ষী ছিলো নিহত সাগর। আর তারই রেশ ধরে এ ঘটনা ঘটে ধারণা এলাকাবাসীর।

সাগরের বড় বোন লাকি আকতার (২২) ও ভাই মো. ইমন (২৭) বলেন, আমার ভাইকে মুছা ও আরাফাত ডেকে নিয়ে নিয়ে গিয়ে খালপাড়ে খুন করেছে। এ কাজে তাদের সহায়তা করেছে তাদের পরিবার তাই তাঁদেরও ধরা হোক।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এ এস আই) নুরুল করিম বলেন, স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। সুরতহালে শিশুর গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চি‎হ্ন আছে।

এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবী সবার।


আরোও সংবাদ