নারী সহিংসতার ঘটনায় ‘রোমঞ্চকর গল্পের’ মতো নয়

প্রকাশ:| শনিবার, ৩ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৭:৫০ অপরাহ্ণ

 

শনিবার ০৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)।
নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবেদন গণমাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে লেখার পরামর্শ এসেছে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা থেকে।
‘গণমাধ্যমে নারী: লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার আধেয় সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণাকর্ম নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

গবেষণা কর্ম উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান।

গবেষণা প্রবন্ধে তিনি জানান, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।  ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ, যৌতুকের কারণে পারিবারিক নির্যাতন ২৮ শতাংশ ও যৌন হয়রানি ২৪ শতাংশ বেড়েছে।

অধ্যাপক মফিজুর রহমান তার গবেষণায় সহিংসতার ঘটনায় গণমাধ্যমে রোমঞ্চকর গল্পের মতো বর্ণনার পরিবর্তে শাস্তি ও এর প্রতিবাদকে গুরুত্ব দেয়ার সুপারিশ করেন।  এছাড়া লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ক্ষেত্রে নারীর ছবি ব্যবহার ও বর্ণনায় অবমাননাকর শব্দ পরিহারের সুপারিশ করেন।

এছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে নির্যাতিতার নাম পরিচয় প্রকাশে বিরত থাকার সুপারিশও করা হয়।

মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা মিডিয়ায় কিভাবে প্রকাশিত হবে তা ভাবা উচিত।  কোন ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ যেভাবে বর্ণনা হয় কিন্তু অপরাধীর শাস্তির খবর সেভাবে বিস্তারিত আসে না।

তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষ‍ায়-চাকরিতে অনেক এগুচ্ছে।  কিন্তু সামজিকভাবে নারী-শিশু নির্যাতন সেভাবে কমেনি।  এর থেকে পরিত্রাণে নারীদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সামাজিক আন্দোলন দরকার।

‘সংবাদ মাধ্যমে এখন আর নির্যাতিতাদের ছবি তেমন ছাপানো হয় না।  কিন্তু ঘটনার বর্ণনার ক্ষেত্রে সহনীয় হওয়া উচিত। ’ বলেন উপ-উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে চবি’র যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী বলেন, নারীরা কর্মদক্ষতায় এগুচ্ছে।  কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। এজন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মানসিকতায় দায়ি।

কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার নারীর প্রতি সবধরণের সহিসংতার প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে প্রতিবেদকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপিএস’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, পারিবারিক জায়গা থেকেই নারীর প্রতি সহিংসতা শুরু হয়।  পড়ালেখা কম থাকা, পৈত্রিক সম্পদে সমান অধিকার না থাকা এবং সামজিক অবক্ষয়ের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে।

নারী-পুরুষের সমতা আনয়ন ও নির্যাতন কমানোর মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে উত্তরণে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দিন শ্যামল, চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবর্ণা মজুমদার, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, সরকারি মহসিন কলেজের সহ