‘‘নারীর প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান না দেখালে উন্নতি সম্ভব হবে না’’

প্রকাশ:| সোমবার, ২১ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৮:১৭ অপরাহ্ণ

নারীকে সম্মান করমুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা এদেশে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারীকে বাদ দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রযাত্রা সম্ভব হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল নারী পুরুষের সমান অধিকার।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গঠিত চেঞ্জমেকারদের সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

সোমবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন চন্দনাইশের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সমাজের অর্ধেক নারী। এদের অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করে দেশ কিংবা সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান যদি না থাকে তাহলে সমাজকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আগে নারীর প্রতি সহিংসতা নির্যাতন আরও বেশি ছিল। প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা নারীমুক্তির জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ কারণে এদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখন নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

রোকেয়া কবির বলেন, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা, কর্মব্যবস্থা, নির্বাচন সব ক্ষেত্রে পুরুষের মতো নারীকেও সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। যারা এটা নিশ্চিত করতে পারবে সেই রাজনৈতিক শক্তিকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। নইলে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেত্রীসহ বিভিন্ন উচ্চ পদে নারীর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রোকেয়া কবির বলেন, সমাজের অবশিষ্ট নারীদের অবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এখনো তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তারা এখনো অবহেলা অবজ্ঞার শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে পরিবর্তন আনা গেলে সমাজেরও পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শুধু নারীর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। দায়িত্ব পুরুষদেরও নিতে হবে।

দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, নারীকে পশ্চাৎপদ করে রাখলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রযাত্রা সম্ভব হবে না। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীতে এখনো অনেক নারী অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

যে যার অবস্থান থেকে নারী উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে যেতে হবে।

আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের জাতীয় সদস্য পাপড়ি বসুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন কবি কামরুল হাসান বাদল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, আনজুমান আরা বেগম, আবিদা আজাদ ও নীলু নাগ, সংস্কৃতিকর্মী রাশেদ হাসান ও সুনীল ধর।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন অগ্রযাত্রা’র সভাপতি নীলিমা আক্তার চৌধুরী, চেঞ্জমেকার আশরাফ উদ্দিন মুন্না, প্রিয়া সেন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জেমস গোমেজ।

সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ। অতিথিরা চেঞ্জমেকারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পরে চেঞ্জমেকারদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।