নারীর ঈদ ভাবনা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

কণা রহমান >>ঈদ আসে আনন্দের বারতা নিয়ে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন চাহিদা বেড়ে যায় আমাদের আনন্দপ্রিয়, সুখপ্রিয়, শৌখিন,নারীর ঈদ ভাবনা ধনী, মধ্যবিত্ত, গরিব নারীদের। ঈদ এলেই চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর কেনাকাটা থাকলেও ঈদে সব নতুন চাই। সবই আছে তার মাঝে আরো যেন কিছু নতুনত্ব থাকে নারীর মাথায়। এ কথাও থাকে_ আয় বুঝে ব্যয় কর চাহিদার কথা চিন্তা কর। তেমনি আয় বুঝে চাহিদা আমাদের সমাজে যারা ধনী ব্যক্তিদের কাতারে পড়ে, তাদের চাহিদা একটা ফ্ল্যাট আছে আর একটা নতুন করে কিনতে হবে। এবারের ঈদে বাচ্চাকে নতুন মডেলের গাড়ি দিতে হবে। আবার কারো চাহিদা থাকে বাজারের সর্বোচ্চ মূল্যের শাড়িটা কিনতে হবে। যেন গেল বছরের থেকে এ বছর আরো ভালো হয়। ঈদ আসছে ফার্নিচারগুলো নতুন কিনতে হবে, সেই সঙ্গে দামি দামি শো-পিস কিনে ঘরের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করে বাড়ি রঙ করাতে হবে। এ-জাতীয় নানাবিধ চাহিদা, সেই সঙ্গে স্বর্ণ কেনার কথা তো মাথায় আছেই। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গহনা সেট তৈরি চাই, ঈদে পরতে হবে। আরো কত কী। এদের থেকে যারা একটু নিচু কাতারে আছে তারা সারা বছর অপেক্ষায় থাকে ঈদের সময় বেতনের সঙ্গে বাড়তি উৎসবভাতা পেলে ফ্রিজ অথবা একটা কালার টিভি, নয় তো কম্পিউটার আর তা না হলেও একটা নতুন মডেলের মোবাইল ফোনসেট হাতে পাই। সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, স্যান্ডেল, কসমেটিক্স আর কিছু না হলেও রান্নাঘরের জন্য কিছু হাঁড়ি-বাসন, সিরামিক্স কিনতে হবে এটা তাদের চাহিদা। তার থেকে আরেকটু নিচু কাতারে যারা রয়েছে তাদের চাহিদা থাকে সাধারণত ধনী ব্যক্তিদের মুখের পানে চেয়ে জাকাত-ফিতরা যা দেবে তাই দিয়ে কেনাকাটা করবে ফুটপাত থেকে। আর যদি এই চাহদা পূরণ না হয় তখন সেমাই-চিনি কিনে সবার ঈদের আনন্দটাকে উপভোগ করবে। দুপুরের জন্য একটা মুরগি কিনে আর মোটা চালের ভাত রেঁধে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেয়ে ঈদ উদযাপন করবে। আরেক শ্রেণির নারী আছে যারা অন্যের দরজায় টোকা দিয়ে পোলাও-মাংস খাবে। ঈদের দিনটাই তো, চাইলে কী হবে। এই দিনটার জন্য এই খাওয়াটার জন্য সারা বছর বসে থাকে, অপেক্ষা করে; এটা তাদের চাহিদা।