নাফ সীমান্তে বিজিবির হিমশিম অবস্থা

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ

শামসু উদ্দীন,টেকনাফ, প্রাতিনিধি :

বাংলাদেশ-মিয়ানমার টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পড়েছে দু’টানায়। একদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অন্যদিকে ইয়াবা অনুপ্রবেশ। এ দুটো জিনিস সমান তালে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। বিজিবির টহলের সময় একটু ফাঁক পেলেই অনায়সে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। এতে বিজিবি ডিউটি করতে হিমশিম খাচ্ছে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে বিরামহীন ভাবে পাহারা দিতে হচ্ছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, সীমান্তের উভয় পাড়ে ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দু’ধরনের দালাল কাজ করছে। এদের ডিউটি হচ্ছে উভয় পাড়ের সীমান্ত রক্ষীদের পাহারা দেওয়া। এদের ডিউটির একটু ফাঁক-ফোকর পেলেই মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়ে ইয়াবার চালান ও রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া। গত ৯ নভেম্বর মিয়ানমারে সহিংস ঘটনার জের ধরে বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে সীমান্ত পাহারা কড়াকড়ি সর্ত্বেও প্রায় ১০/১৫ হাজার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে সীমান্তের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবরে জানা যায়। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ অনুপ্রবেশের একমাত্র হোতারা হচ্ছেন উভয় পাড়ের অবৈধ আদম পারাপারের আদম ঘাট ওয়ালা ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের কারণে। সাম্প্রতিক টেকনাফ উপজেলা প্রসাশন ইহা আচঁ করতে পেরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ৭ জন আদম ঘাটের দালালকে মোবাইল কোর্টে সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। ফলে ৭৫ শতাংশ অনুপ্রবেশ কমে গিয়েছে। বাকী দালালদেরকে আটক করা গেলে অবৈধ অনুপ্রবেশ শূন্যের কোটায় চলে আসবে বলে সীমান্ত এলাকার লোকজনদের ধারণা। এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। যা টেকনাফস্থ ২ বিজিবির ব্যাটালিয়ানের তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে ১ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ১৭ লাখ ২৬ হাজার ১শ ৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করা হয়েছে। যার আনুমান মূল্য ৫১ কোটি ৭৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯শ টাকা। এ সময় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ২১ জনকে অসামী করা হয়। মিয়ানমারে সহিংস ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য অতিরিক্ত ফৌজ মোতায়েন করা হয়। শুধু মাত্র রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য। এ সুযোগে সু-চতুর উভয় পাড়ের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সীসন্ত রক্ষীদেরকে ফাঁকি দিয়ে আনতে থাকে ইয়াবার বড় বড় চালান। যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ চালান। যা সীমান্ত রক্ষী বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হচ্ছে। যা এখনও আসা অব্যাহত রয়েছে। ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত রক্ষী বিজিবি দু’টানায় পড়ে হিমশিম খাচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে রোহিঙ্গা মুসলিমেরা এ ইয়াবার বড় বড় চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে।


আরোও সংবাদ