নাগরিক প্রত্যাশা পুরন হচেছ না আমলাতান্ত্রিক কারণে

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৯:১৪ অপরাহ্ণ

সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট এর আওতায়
সিটি কর্পোরেশন প্রশাসিক পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মশালায় সিটি মেয়র

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে জাইকা সহায়তা পুষ্ট সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট এর আওতায় সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা (এআরপি) প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কমিটি (এআরসি) এর কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে নাগরিক প্রত্যাশা পুরন ও সেবা প্রাপ্তিও অনেকাংশে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কয়েকটি বিভাগ ও শাখার প্রধানদের পদবী দীর্ঘদিন খালি থাকার কারণে নাগরিক প্রত্যাশা বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। যথাসময় ও যথানিয়মে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেও প্রত্যাশা পুরনে দীর্ঘসুত্রিতা দেখা যাচ্ছে। জাইকা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সহযোগিতায় এগিয়ে আসায় মেয়র জাইকা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কতৃজ্ঞতা জানান। ৯ মার্চ ২০১৬ খ্রি. বুধবার, সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে দিন ব্যাপি কর্মশালায় সিটি কর্পোরেশনের (এআরসি) কমিটির কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। কর্মশালায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম বিষয়ক দিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেন সৈয়দা নোভিরা ইয়ামিন। কর্মশালা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ১৯৮৮ সনের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জনবল কাঠামো দ্বারা ২০১৬ সনের সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা দুরহ হয়ে পড়েছে। দায়িত্বশীলদের সক্ষমতার উপর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অনেকাংশ নির্ভর করে। নতুন জনবল কাঠামোর অনুমোদন পাওয়া গেলে সিটি কর্পোরেশনে কাজে গতিশীলতা আনায়ন সম্ভব হবে। মেয়র বলেন, ২০০৫ সন থেকে ঠিকাদারদের পাওনা ও নানামুখী দায়-দেনা প্রায় সাড়ে ৩ শত কোটি টাকার দায় নিয়ে আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা করছি। ৬ মাসের মধ্যে অনেক জোড়াতালি দিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে কিছুটা গতিশীল করতে সক্ষম হয়েছি। সিটি মেয়র বলেন, মন্ত্রণালয়ের সার্পোট পরিপূর্ণ পাওয়া গেলে নাগরিক প্রত্যাশা ও তাদের অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সম্পদগুলোকে কাজে লাগিয়ে অর্জিত আয় ও হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে গতিশীলতা আনায়নের মধ্য দিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে একটি স্বাবলম্বী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে উন্নিত করার প্রয়াস চলছে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের তিনস্তরে সেবার খাত থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে- যা বিরল দৃষ্টান্ত। মেয়র সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সেবায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমূহের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কর্মশালায় সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পরিসেবা সমূহ তুলে ধরে আগামী ১০-১৫ বছরের কাংখিত ভবিষ্যৎ অবস্থা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কর্মকান্ডের কার্যতালিকা, এআরসি ও সিডিইউ এর কার্যপরিধি, দায়-দায়িত্ব, কার্যক্রমের প্রক্রিয়ার মধ্যে ভিশন ও মিশন, কার্যক্রমের পর্যালোচনা ও জবডেসক্রিপশন কাইজেন তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, সচিব রশিদ আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, উপ-সচিব সাইফুদ্দিন মাহমুদ কাতেবী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।