নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবি-বিজিপি ফের গোলাগুলি, কাঠুরিয়া গুলিবিদ্ধ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ জুন , ২০১৪ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি ॥ বিজিবি-বিজিপি ফের গোলাগুলি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারো সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিজিপি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় আষাঢ়তলী সীমান্তে কাঠ কাটতে যাওয়া কাঠুরিয়া দিল মোহাম্মদ (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সীমান্তে সতর্কবস্থায় রয়েছেন বিজিবি এবং বিজিপি। বৃহস্পতিবার বিকালে আষাঢ়তলী সীমান্তের ৪৭ নাম্বার সীমান্ত পিলারের কাছে এই ঘটনা ঘটে। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীর গুলি বর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার লে: কর্ণেল শফিকুর রহমান জানান, আষাঢ়তলী সীমান্তের ৪৭ নাম্বার সীমানা পিলার এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৃহস্পতিবার আবারো গুলি বর্ষণ করেছে। বিজিপির গুলিতে বাংলাদেশী এক কাঠুরিয়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্কবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের আষাঢ়তলী ৪৭ নাম্বার সীমান্ত পিলারের কাছে জঙ্গলে কাঠ কাটতে গেলে বাংলাদেশী কাঠুরিয়া’দের উপর গুলি বর্ষণ করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। এসময় আষাঢ়তলীর বাসিন্দার মির আহম্মেদের পুত্র দিল মোহাম্মদ (২৮) গুলিবিদ্ধ হন। কোমরের নীচে মোহাম্মদের পুরুষ অঙ্গকোষে গুলি লাগায় অঙ্গকোষ ছিড়ে গেছে। আহত অস্থায় কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কক্সবাজার হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: আব্দু সালাম জানান, গুলিবিদ্ধ দিল মোহাম্মদের অবস্থা আশংকা জনক। বর্তমানে সার্জারী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আষাঢ়তলী সীমান্তে মিয়ারমার সীমান্তরক্ষী বিজিপি’র গুলি বর্ষণের ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিও পাল্টা গুলি বর্ষণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আষাঢ়তলীয় সীমান্ত’সহ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে সতর্কবস্থায় রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহেদুল ইসলাম জানান, সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ফের গুলি বর্ষণের খবর পেয়েছি। গুলিতে বাংলাদেশী একজন কাঠুরিয়াও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে কাঠুরিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন সেটি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
প্রসঙ্গত: গত বুধবার সকালে (২৮মে) নাইক্ষ্যংছড়িতে দৌছড়ি সীমান্তে বিজিবি টহল দলের উপর গুলি বর্ষণ করেন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাইনছড়ি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান মারা যান। মৃত্যুর পর অস্ত্র’সহ বিজিবি সদস্যের লাশ নিয়ে যান মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার বিকাল পাঁচটায় বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ হস্তান্তর করেন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পওে গত ৫জুন মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিহত বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের লুট হওয়া এসএমজি, চারটি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ ফেরত দেয় বিজিপি। বৈঠকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেয়। ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।