নমুনা ডিম ছেড়েছে হালদার মা মাছ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

নমুনা ডিম২

নমুনা ডিমনমুনা ডিম ছেড়েছে হালদার মা মাছ। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। তবে এবার বজ্রবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল ছাড়াই মাছের ডিম ছাড়াকে ব্যতিক্রম ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে হালদায় ডিম ছাড়তে শুরু করে কার্প জাতীয় (রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাইশ) মা-মাছ। এতে ডিম সংগ্রহকারীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ৷ তবে ডিম সংগ্রহ কম হওয়ায় তাঁরা হতাশ।

ডিম সংগ্রহকারী, হালদা বিশেষজ্ঞ ও মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা প্রায় কয়েক’শ নৌকায় করে নদীতে ডিমের খোঁজে নেমে পড়েন। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত যাঁরা নদীতে ছিলেন, তাঁরা মোটামুটি পরিমাণে ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। কিন্তু এরপর নদীতে তেমন ডিম পাওয়া যায়নি।

হালদা নদীর কাগতিয়ার আজিমের ঘাট, খলিফার ঘোনা, পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, বিনাজুরী, সোনাইর মুখ, আবুরখীল, খলিফার ঘোনা, সর্ত্তাঘাট, দক্ষিণ গহিরা, মোবারকখীল, মগদাই, মদুনাঘাট, উরকিচর এবং হাটহাজারী গড়দুয়ারা, নাপিতের ঘাট, সিপাহির ঘাট, আমতুয়া, মার্দাশাসহ প্রায় ২০-২২টি পয়েন্টে ডিম সংগ্রহ করা হয়৷

হালদা নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি না হলেও মা মাছ ‘নমুনা ডিম’ ছেড়েছে। নমুনা ডিম পাওয়া গেছে গড়দুয়ারা থেকে মাদার্শা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায়। তবে ডিম সংগ্রহের পরিমাণটা ছিল খুবই কম। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পূর্ণিমা-অমাবস্যা তিথিতে পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ হলে এবং নদীর পানির তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলেই মা মাছ ডিম দেয়। এখন সবাই বৃষ্টির অপেক্ষায় আছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল থাকলে নদীর উজানে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার ফাগুনের শেষে বৃষ্টি ছাড়াই ডিম ছেড়ে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আকাশ ছিলো একেবারে মেঘমুক্ত, তাই নেই হালদায় পাহাড়ি ঢল। পাহাড়ি ঢল ছাড়াই মাছের ডিম ছাড়াকে ব্যতিক্রম ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

হালদায় ২০ বছর ধরে ডিম সংগ্রহ করছেন গড়দুয়ারা এলাকার অধিবাসী মো. আসলাম। তিনি বলেন, ‘নদীতে ছয়টি নৌকা ও ১৪ জন মানুষ নামিয়ে দু’দিনে মাত্র ৫ বালতি ডিম পেয়েছি। অথচ গত বছরও ৩৫ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি৷’

দুলালচন্দ্র দাশ নামের আরেকজন ডিম সংগ্রহকারী জানান, হালদায় দুটি নৌকা নামিয়ে সাত-আট ঘণ্টা চষে বেড়িয়ে মাত্র দুই বালতি ডিম পেয়েছেন তিনি। অথচ গত বছর দুই দফায় প্রায় ৩ হাজার কেজি ডিম ছেড়েছিল মা-মাছ।

প্রথম দফায় ডিম কম পেয়ে এখন তাঁরা তাকিয়ে আছেন মা-মাছ দ্বিতীয় দফা ডিম ছাড়ে কি না, সেদিকে।