নব সাজে সাজবে কক্সবাজার পর্যটন জোন

প্রকাশ:| বুধবার, ১২ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ০৪:৪৭ অপরাহ্ণ

%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0
সমুদ্র শহর কক্সবাজারের কলাতলীর পর্যটন জোনে থাকবে না মাটির রাস্তা কিংবা খানাখন্দে ভরা সড়ক।  বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হবে না জলাবদ্ধতা।  নর্দমার অভাবে পানি বইবে না রাস্তার উপর দিয়ে।  প্রতিনিয়ত যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হবে না পর্যটকদের।

এমনটাই দাবি করে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, পর্যটন জোনকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার পৌরসভা।

পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও সুখময় করতে পর্যটন জোনে ১৮টি রাস্তা, ৩টি ইউ আকৃতির নালা, ১টি ফুটপাত, ১টি রিটানিং ওয়াল ও সমুদ্র সৈকতে নামার জন্য ১টি সিড়ি নির্মাণ করবে কক্সবাজার পৌরসভা।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৮ কোটি ৩৪ হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয়ে ইউজিআইআইপি-৩ এর আওতায় ৩ ভাগে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, পর্যটন জোনের অধিকাংশ রাস্তাঘাট মাটির তৈরি।  তাই অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট কাদায় ভরে যায়। নালা না থাকার কারণে হোটেল মোটেলের দূষিত পানি রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসব কারণে সারাদেশে কক্সবাজারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।  এ থেকে উত্তোরণের জন্য কলাতলী রোডের পূর্বপাশের ৩ হাজার ৩৭২ মিটার মাটির রাস্তাকে আরসিসি রাস্তায় উন্নীত করা, ৫ হাজার ১৩৩ মিটারের ইউ আকৃতির নালা ও হোটেল ওশান প্যারাডাইসের দক্ষিণ পাশের রাস্তা মেরামতসহ সমুদ্র সৈকতে নামার জন্য সিড়ি নির্মাণে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ৩ হাজার টাকা।

হোটেল মোটেল জোনের ১৪টি মাটির রাস্তাকে আরসিসি রাস্তার আওতায় আনা হবে।  এর মধ্যে রয়েছে জলপরি রোড, লেসিজ টু শ্যামস প্লাজা, হোটেল কোয়ালিটি হোম টু গ্রিন প্যালেস, লাইট হাউস রিসোর্ট টু জব্বর মুল্লুক হাউস, কে লাইফ রোড, সিলভার রিসোর্ট রোড, সিম হ্যাচারি রোড, লেগুনা বিচ টু হিল টাওয়ার, হোয়াইট অর্কিড রোড, বিচ ওয়ে রোড, হোয়াইট অর্কিড টু অটোমিক এনার্জি অফিস রোড, সৈকতপাড়া জামে মসজিদ টু অটোমিক এনার্জি অফিস রোড এবং ডিভাইন হোটেল রোড।

এছাড়া একই এলাকায় হোটেল মোটেল জোনের পানি নিষ্কাশনের জন্য ৫ হাজার ১৩৩ মিটার ইউ আকৃতির নালা নির্মিত হবে।

একই প্রকল্পের আওতায় কলাতলী রোডের হোটেল ওশান প্যারাডাইসের দক্ষিণ পাশের সড়কের ভাঙ্গা অংশ মেরামত করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকরা যাতে ওই রাস্তা ধরে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যেতে পারে সেজন্য নির্মাণ করা হবে কয়েক ধাপের স্টিয়ার সিঁড়ি।

সূত্র জানায়, কলাতলীর ডলফিন মোড় থেকে বেলি হ্যাচারি পর্যন্ত ১৫৫০ মিটার ব্রিক সলিং সড়ক নির্মাণ করা হবে। কলাতলী উচ্চ বিদ্যালয় সড়কটির ১২৫ মিটার আরসিসি রাস্তা, একই স্থানে একই মাপের ইউ আকৃতির নালা ও ডলফিন মোড় থেকে বেলি হ্যাচারি রাস্তার পাশে থাকে পুকুরের ধারে ৪২ মিটার স্টিয়ারিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।  কলাতলীর এসব কাজে ব্যয় হবে ১ কোটি ৯৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

অন্যদিকে সি-ইন পয়েন্ট থেকে হোটেল সিগাল ও অভিসারের সামনে দিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পর্যন্ত ৯৩৩ মিটার ইউ আকৃতির নালা নির্মিত হবে। এছাড়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে হোটেল অভিসার পর্যন্ত হাঁটাচলার জন্য ৩২৩ মিটার ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।  একইসাথে হোটেল কল্লোল থেকে অভিসার ঘেষে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পর্যন্ত ৫৯৯ মিটার ব্রিক সলিং রোডও তৈরি করা হবে। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এসব কাজে খরচ হবে ২ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে যায়, প্রকল্পটি পরিদর্শন করতে ১৫ অক্টোবর ইউজিআইআইপি-৩ একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার আসবে।  এরপর দরপত্র আহবান করা হবে।  দরপত্র আহবান, টেন্ডার ওপেন, ওয়ার্ক অর্ডার তৈরিসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করার পর রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সিরাজুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে জানান, পর্যটন জোনকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  ইউজিআইআইপি-৩ এর আওতায় ওই এলাকার রাস্তাঘাট ও নালা নর্দমা তৈরির জন্য প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে ওই প্রকল্পের কাজ।  আর এসব রাস্তা নালা নির্মাণ কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজার পর্যটনের চিত্র। রাস্তায় জমবে না নর্দমার পানি কিংবা কাদামাটি। ফলে দুর্ভোগ কমবে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আগত দেশি বিদেশি পর্যটকদের।