নবজাতক রেখে মৃত শিশু দেওয়ার ঘটনার তদন্ত শেষ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

নগরের প্রবর্তক মোড়ের বেসরকারি ‘চাইল্ড কেয়ার’ হাসপাতালে নবজাতক কন্যার বদলে ছেলের মরদেহ দেওয়ার ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও চতুর্থ দিনে এসে সোমবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটার দিকে প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এএম মুজিবুল হকের কাছে জমা দেওয়া হয়।

ডা. এএম মুজিবুল হক বলেন, প্রতিবেদনটি আমরা পেয়েছি। কয়েক পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ হলেও সঙ্গে অনেক সাক্ষ্যপত্র, ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে আমরা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারব।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে বেশ কিছু দালিলিক প্রমাণাদিও জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউর ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু ত্রুটি, গাফেলতি শনাক্ত করেছে।একই সঙ্গে চার-পাঁচটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও দিয়েছে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এদিকে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আমিনুল হক বাবু সোমবারও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে গেছেন। তিনি বলেন, চমেকের ৩২ শয্যার এনআইসিইউতে ১২০টি রোগী থাকলেও ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই। অথচ চাইল্ড কেয়ারে মাত্র দুটি এনআইসিইউর রোগী সামলাতে ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছে। তারা বেড বদলের কারণে কন্যাশিশুর বদলে ছেলে শিশুর মরদেহ তুলে দেওয়ার যে অজুহাত দাঁড় করিয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন শিশুটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। এ ধরনের ১০টি শিশুর মধ্যে ৭ জন মারা যায়। বর্তমানে শিশুটির তৃতীয় ধাপের চিকিৎসা চলছে।

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ফেনী থেকে আসা রোকসানা আকতার (২১) নামের এক মা’র নবজাতক কন্যাশিশুকে রেখে অপর একটি শিশুর মরদেহ দেওয়া হয়। পরে জানাজার জন্য গোসল করানোর সময় সবাই দেখতে পান সেটি ছেলে শিশু। তারপর পাঁচলাইশ থানার হস্তক্ষেপে বুধবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে শিশুর মরদেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসল কন্যা সন্তান ফেরত দিতে বাধ্য হয় চাইল্ড কেয়ার কর্তৃপক্ষ। এরপর উদ্ধার হওয়া শিশুটি জিইসির বেসরকারি রয়েল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিন দিন রাখার পর শিশুর পরিবারের আর্থিক অসংগতির বিষয় বিবেচনা করে শনিবার (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের উদ্যোগে চমেকে নিয়ে আসা হয়।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এএম মুজিবুল হকের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিভিল সার্জন।

২৫০ শয্যার আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথকে আহ্বায়ক ও একই হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলমকে সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামকে সদস্য করা হয় কমিটিতে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বেঁধে দিলেও পরদিন শুক্রবার থাকায় জমা দিতে পারেনি কমিটি। আবার সপ্তাহের প্রথম দিন রোববারও প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়নি তদন্তকাজ বাকি থাকায়।


আরোও সংবাদ