নদীতে ভাসা লাইটারেজ থেকে অবশেষে লবণ খালাসের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ

লাইটারেজতিন মাস ধরে নদীতে ভাসা লবণ বোঝাই লাইটারেজ জাহাজ দু’টি থেকে আমদানিকৃত লবণ কাস্টমসের জিম্মায় খালাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সম্মেলন কক্ষে আমদানিকারক, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে লাইটার জাহাজ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল। তবে শর্তানুযায়ী আমদানিকারকের অঙ্গিকারনামা কাস্টমস থেকে না পৌঁছায় এখনো বার্থিং মিটিং হয়নি বলে জানিয়েছেন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি)যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক আহমেদ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনিট-২) নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের চট্টগ্রামের ফ্যাক্টরির জন্য ভারত থেকে ২ হাজার ২২২টন লবণ আমদানি করে।

লবণ বোঝাই জাহাজটি গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। এর প্রায় এক মাস পর আমদানিকারক গত ১ নভেম্বর কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ৭৮ ধারায় লবণের শুল্ক করাদির সমপরিমাণ অর্থ ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৮ টাকার পে অর্ডার দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে লবণের চালান দু’টি লাইটারেজ জাহাজে সংরক্ষণের অনুমোদন নেয়।

২ এবং ৩ নভেম্বর এমভি খলিল-১ এবং এমভি কালাম এক্সপ্রেস-১ নামের লাইটারেজ জাহাজ দুটিতে লবণের চালানটি খালাস করে বড় জাহাজটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু লবণ বোঝাইয়ের পর থেকে গত চার মাস ধরে লাইটারেজ জাহাজ দু’টি আটকা পড়ে আছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমদানি রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে না পারায় চট্টগ্রাম কাস্টমস চালানটি খালাসের অনুমোদন দিচ্ছে না। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ব্যাখা চেয়েছে কাস্টস।

এ অবস্থায় লবণ বোঝাই জাহাজ দুটি সাগরে ভাসতে থাকায় সোমবার বিকেলে থেকে লাইটারেজ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় ডব্লিউটিসি। এরপর মঙ্গলবার আমদানিকারক ও ডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন কাস্টমস কমিশনার। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমদানিকারক উচ্চ আদালত থেকে নিজেদের জিম্মায় পণ্য খালাসের যে নির্দেশনা এনেছে তা কাস্টমসের জিম্মায় খালাসের অঙ্গিকারনামা জমা দিবে।

শফিক আহমেদ বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমদানিকারক মেনে নিয়েছেন। আমরাও তা মেনে নিয়ে লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমদানি কারকের অঙ্গিকারনামা এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি।