নতুন সাজে সেজেছে চুয়েট

প্রকাশ:| রবিবার, ৩১ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান

Cuet চুয়েটচট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ১২তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ১ সেপ্টেম্বর সোমবার। নতুন করে সেজেছে চুয়েট ক্যাম্পাস। এই উপলক্ষে বর্ণাঢ্য নানা অনুষ্ঠানমালা নেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষ। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, টি-শার্ট বিতরণ, পতাকা উত্তোলন,আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ প্রভৃতি।

উক্ত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চুয়েটের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ রফিকুল আলম এবং পুরকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত।

Guest of Honor হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কনফিডেন্স সিমেন্ট লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রূপম কিশোর বড়–য়া, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: ওয়াহিদুর রহমান, গণপূর্ত অধিপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: কবির আহমদ ভূূঞা এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানী লিমিটেড-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু। সভাপতিত্ব করবেন চুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) বাংলাদেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা-গবেষণার অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে ১৯৬৮ সাল হতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

চট্টগ্রামেরই এক মনোরম প্রাকৃতিক পাহাড়ি ভূমিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস অবস্থিত। এই মনোহর ক্যাম্পাসে সম্মিলন ঘটেছে পাহাড়, সমতল ও লেকের। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন প্রায় ১৬৩ একর জমির উপর এই ক্যাম্পাস অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠান হতে ডিগ্রীপ্রাপ্ত অসংখ্য প্রকৌশলী দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে নিয়োজিত রয়েছেন। যাদের নিরলস শ্রম ও নিবেদিত প্রয়াস দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালে উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তির শিক্ষাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়া। নানাবিধ জটিল সমস্যাবলীর সমাধানের উদ্দেশ্যে সরকার ১৯৮৬ সালে দেশের ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে স্বায়ত্ত্বশাসিত বিআইটিতে (Bangladesh Institute of Technology) রূপান্তরিত হয়। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইটি, চট্টগ্রাম ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযু্িক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (Chittagong University of Engineering & Technology) নামে যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদের অধীনে ৮টি বিভাগে ¯œাতক এবং ৯টি বিভাগ ও গবেষণা কেন্দ্রে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে । শিক্ষা-গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে ইতোমধ্যে ৩টি ইনষ্টিটিউট এবং ২টি রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং এন্ড কনসালটেন্সি (বিআরটিসি) এর মাধ্যমে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে চুয়েটে আরো নতুন নতুন বিভাগ খোলা হবে। অধিকন্তু, তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সেবা ও গবেষণার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম IT Business Incubator স্থাপন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা-গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছরে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাথে একাডেমিক Joint Collaboration স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অনুরূপ চুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং বিশ্বের ৭টি দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত আর্ন্তর্জাতিক গবেষণা ফোরাম International Forum On Strategic Technology (IFOST) এর মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (গড়ট) স্বাক্ষরের ফলে চুয়েট ওঋঙঝঞ এর পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করেছে, যা ওঋঙঝঞ এর অন্যান্য সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুয়েটের যৌথভাবে গবেষণা ও ঞবধপযবৎ-ঝঃঁফবহঃ ঊীপযধহমব প্রোগ্রাম চালু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিক্ষা ও গবেষণায় কাঙ্খিত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে হাইয়ার এজুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্টের (ঐঊছঊচ) অধীনে চুয়েটে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কয়েকটি প্রকল্প চলমান আছে। এ সকল প্রকল্পের অধীনে ল্যাব গুলোতে ঝঃধঃব ড়ভ ঃযব অৎঃ ইক্যুইপমেন্ট স্থাপন ও গঁষঃরসবফরধ নধংবফ ঞবধপযরহম-খবধৎহরহম ভধপরষরঃরবং সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া চুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণের ক্লাস উপভোগ করার জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট কানেকশনসহ ইতোমধ্যে ১টি ঠরৎঃঁধষ ঈষধংং জড়ড়স স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ যাবৎ পাশ করা ৭০০০ জনের অধিক গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী নিয়ে দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক কিছু অর্জন ও সফলতা: এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম মোতাবেক বিভাগ, ডিরেক্টরেট-সেন্টার চালু, জনবল চাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের নিমিত্তে ‘‘ঋঁৎঃযবৎ ঊীঢ়ধহংরড়হ ধহফ উবাষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঈযরঃঃধমড়হম টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঊহমরহববৎরহম ্ ঞবপযহড়ষড়মু (ঈটঊঞ)’’ শীর্ষক একটি প্রায় ৭০ কোটি টাকার ১টি উচচ একনেকে চুড়ান্ত অনুমোদনের পর বর্তমানে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এটি বর্তমান সময়ে চুয়েটের জন্য অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

সম্প্রতি ২এমভিএÑ ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। উক্ত সাব-স্টেশন চালু করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বের তুলনায় লোড-শেডিং হচ্ছে না, ইতিপূর্বে বিরাজমান লো-ভোল্টেজ সমস্যাও থাকছে না। ক্যাম্পাসে বসবাসকারী পুরো চুয়েট পরিবার এই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।

জাপানের আর্ন্তজাতিক সাহায্য সংস্থা ঔধঢ়ধহ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈড়ড়ঢ়বৎধঃরড়হ অমবহপু (ঔওঈঅ) অর্থায়নে পরিচালিত ওঞ ঊহমরহববৎ’ং ঊীধসরহধঃরড়হ (ওঞঊঊ)-এর আঞ্চলিক পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ। এর ফলে এই পরীক্ষায় কৃতকার্য বাংলাদেশী আইটি গ্রাজুয়েটদের আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তি আরো সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এশিয়ার ১১টি দেশে এ ধরনের কেন্দ্র চালু আছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম পরীক্ষা অনুষ্টিত হবে চুয়েটে। বছরে দুইবার ( এপ্রিল ও অক্টোবর) মাসে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চুয়েট-এর প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি লাভের গৌরব অর্জন করেছেন পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: মইনুল ইসলাম। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর মেডিকেল সেন্টারে আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সংযোজনকৃত ল্যাবের মাধ্যমে আধুনিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে।
এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্প্রতি একটি করে অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও স্বনামধন্য শিল্প গ্র“প চঐচ ভধসরষু। এর ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান এ্যাম্বুলেন্স সংকট সমাধান হয়েছে।

ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিতএশিয়ার সর্ববৃহৎ আর্ন্তজাতিক রোবট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছে চুয়েট-এর একটি টিম। রোবোকন ২০১৪ (জঙইঙঈঙঘ ২০১৪) নামের এই প্রতিযোগিতা এশিয়ার রোবট জগতের সবচেয়ে সম্মানজনক একটি প্রতিযোগিতা। এবার এশিয়ার ১৮টি দেশ এতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া চুয়েট-এর কৃতি শিক্ষার্থীরা আর্ন্তজাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) আয়োজিত প্রোগ্রামিং কনটেস্টে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর দুটি প্রজেক্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়োজিত বে-ব্রিজ হাউজ ডিজাইন শীর্ষক প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হয়েছে। ৩৭টি দেশের মধ্যে থেকে বাছাইকৃত ১৪টি প্রজেক্টের মধ্যে দুটিই এখন চুয়েটের। এছাড়া চুয়েটের একটি টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাতীয়ভাবে আয়োজিত ইধহমষধষরহশ এৎধহফসধংঃবৎ-রফবধ পড়হঃবংঃ’২০১৪-এ।

চুয়েট-এ বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ-সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের উদ্যোগে ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। চুয়েটে থেকে পাস করা শিক্ষর্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চুয়েটে এই রিক্রুটমেন্ট। চুয়েটে থেকেই বাংলাদেশ পর্যায়ে এ ধরনের রিক্রুটমেন্ট প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)-এ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে প্রানবন্ত আর্ন্তজাতিক সম্মেলন (২হফ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈড়হভবৎবহপব ড়হ গবপযধহরপধষ ঊহমরহববৎরহম ধহফ জবহবধিনষব ঊহবৎমু-ওঈগঊজঊ ) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। চুয়েটের যন্ত্রকেশৗল বিভাগের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত হয় এই আর্ন্তজাতিক কনফারেন্সে। কনফারেন্সে দেশী-বিদেশী গবেষকগণের ১৮৭টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। যার মধ্যে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি(মালয়েশিয়ার ৪টি, অস্ট্রেলিয়ার ৮টি, দক্ষিণ কোরিয়ার ৩টি, জাপানের ১টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১টি, জার্মানির ১টি), বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৩টি এবং বিভিন্ন কোম্পানীর ৬টি গবেষণাপত্র ছিল। এছাড়া এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় রোবট দৌড় প্রতিযোগিতা। দেশের প্রথম রোবট দৌড়ের কৃতিত্ব অর্জনকারী চুয়েটে এবার দ্বিতীয়বারের মত এই আকর্ষনীয় ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। এবারের রোবট দৌড়ে ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭টি টিমের প্রায় ৩০০ জন তাদের স্ব স্ব রোবট নিয়ে অংশগ্রহন করে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ আয়কর বিষয়ক প্রানবন্ত সেমিনার দিয়ে দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আয়কর সচেতনামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চুয়েট এবং অতিরিক্ত কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রাম এর যৌথ আয়োজনে ‘‘ঋঁঃঁৎব ঞধী চধুবৎং, ঋঁঃঁৎব ঞধী ঈড়ষষবপঃড়ৎং ্ ঋঁঃঁৎব ঘধঃরড়হ ইঁরষফবৎং’’ শীর্ষক আয়কর বিষয়ক সেমিনার এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়েট এবং এথিক্স অ্যাডভান্সড টেকনোলজি লিমিটেড (ঊঅঞখ) মধ্যে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং সম্পর্কিত প্রযুক্তির পাল্টানো একটি সমঝোতা স্মারক (গড়ট) স্বাক্ষর হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী চুয়েটের ছাত্র-ছাত্রীরা ঊঅঞখ থেকে মোবাইল এপ্লিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহায়তা ও সেবা পাবে। একই সঙ্গে চুয়েটের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মোবাইল অঢ়ঢ়ং উন্নয়নে তাদের ভূমিকা আরো জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

চুয়েট-এর ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি)-এর অধীনে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ‘চড়ংঃ এৎধফঁধঃব উরঢ়ষড়সধ রহ ওহভড়ৎসধঃরড়হ ্ ঈড়সসঁহরপধঃড় ঞবপযহড়ষড়মু’ শীর্ষক কোর্স।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিভিন্ন বিভাগে পিএইচডি/ এমফিল/ মাস্টার্স কোর্স সম্পাদননকারী এবং একই সময়ে বিভিন্ন বিভাগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষকগণকে সংবর্ধনা প্রদানের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের অধীনে যাত্রা শুরু করেছে দেশের স্থাপত্য বিষয়ক প্রথম আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এনভায়রণমেন্টাল ল্যাব। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তত্ত্¡াবধানে ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ঐরমযবৎ ঊফঁপধঃরড়হ ছঁধষরঃু ঊহযধহপবসবহঃ চৎড়লবপঃ (ঐঊছঊচ) ঈচ-১৭৪-এর উদ্যোগে এই ল্যাবটি স্থাপিত হলো। এই এনভায়রণমেন্টাল ল্যাবের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ এবং জ্বালানি বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চুয়েট-এ সিএসই বিভাগের উদ্যোগে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক জাতীয় কনফারেন্সে “১ংঃ ঘধঃরড়হধষ ঈড়হভবৎবহপব ড়হ ওহঃবষষরমবহঃ ঈড়সঢ়ঁঃরহম ্ ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঞবপযহড়ষড়মু (ঘঈওঈওঞ-২০১৩)” শীর্ষক কনফারেন্স চুয়েট ক্যাম্পাসে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক বিভাগ (ইইই)-এর উবধিহ ঠখঝও উবংরমহ খধনড়ৎধঃড়ৎু উদ্যোগে প্রথমবারের মত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিনব ও প্রযুক্তি নির্ভর এই বিশেষজ্ঞ পাঠদান প্রক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষক-গবেষকগণ অংশ নেন।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও চুয়েটে নানাভাবে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। এছাড়া চুয়েট এলামনাইসহ অন্যান্য শুভাকাঙ্খী ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে।

বর্তমানে চুয়েট অস্থিরতামুক্ত ও সেশনজট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত। এখানে শিক্ষা-গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে নানামুখী প্রচেষ্টা আছে। বিশ্বমানের ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। চার বছরের কোর্স প্রায় সাড়ে তিন বছরে সম্পন্ন হওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায়ও এখানে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিয়মিত সময়োপযোগী আর্ন্তজাতিক ও জাতীয় সেমিনার/ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে আরো গতিশীলতা আনয়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের জন্য আর্ন্তজাতিক মানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এখানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে চুয়েট একটি শান্তি ও সম্প্রীতির সুন্দর পরিবার হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা নিরসনসহ অন্যান্য অনেক বিরাজমান সমস্যাসহ প্রশাসনিক, একাডেমিক এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার কাজে আরো গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।