নতুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মৌলিক অধিকার ধুলিসাৎ হয়েছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ জুন , ২০১৩ সময় ০৪:২৬ অপরাহ্ণ

তুন করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনীর ফলে মানুষের মৌলিক অধিকার ধুলিসাৎ হয়েছে। সাংবিধানিক ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধনী আইন ২০১৩ পাস হওয়ার পর এই আইনের বিরোধিতা করে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধী দল।

এর আগে কণ্ঠভোটে আইনটি পাশের সময় প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ অধিবেশন থেকেও ওয়াকআউট করে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জামায়াতের আনম শামসুল ইসলাম, সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, আশিফা আশরাফী পাপিয়া, নিলূফার চৌধুরী মণি প্রমুখ।

সংশোধিত আইনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, সংশোধনীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ধারা-১৯ সংশোধন করে সংগঠন শব্দের সঙ্গে ব্যক্তি ও সত্ত্বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একজন সাধারণ নাগরিককে এই আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করা হবে। এছাড়া এ আইনে সংশোধন এনে অপরাধ জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আদালতও সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ আমলে নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এই আইনে জামিনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা করা, সম্পত্তি ক্রোক বিধান থাকলেও সংশোধিত আইনে শুধু ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেই পুলিশ কর্মকর্তা এসব ব্যবস্থা নিতে পারবেন। কোর্টের অনুমতি নিয়ে যে কেউ বিদেশে যেতে পারলেও কারও বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হলে তিনি তা পারবেন না। অভিযুক্ত ব্যক্তি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও তার মতামত দিতে পারবেন না।’

যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে এই আইনটি পাস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।

এদিকে এমকে আনোয়ার সংশোধিত সন্ত্রাস বিরোধী আইনকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, কোনো সভ্য সমাজে এই ধরনের স্বৈরাচারী আইন হতে পারে না।mowdod9