‘নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখবে’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:০৫ অপরাহ্ণ

নতুন প্রজন্ম 2
এম.এ.আজিজ ষ্টেডিয়াম গোলচত্বরে আজ বিকেলে বিজয় শিখা প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধিত হয়েছে। বেলুন ও পায়রা উড়ানোর মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিটি মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

প্রধান অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.বি.এম মিহিউদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন একসাথে অগ্নিমশাল মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের হাতে তুলে দেন এবং তারা টাওয়ারে বিজয় শিখা প্রজ্জ্বলন করেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ও কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর (অবঃ) এমদাদুল হক।
নতুন প্রজন্ম
বিজয় শিখা প্রজ্জ্বলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজয় মঞ্চের অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বাংলাদেশ ও বাঙালি বিশ্ব সভ্যতা ও ইতিহাসে আলোকিত প্রতিক। এই দেশ ও জাতিসত্তা কখনো বিলিন হতে পারে না। আমরা লক্ষ করেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ও তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের সময় পাকিস্তান নামক একটি উদ্ভট রাষ্ট্র সাফাই গেয়েছে। এই আচরন অত্যন্ত ঘৃণ্য। এই আচরণের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা থেকে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিদেশে বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানে আজ বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে। এবং আশার কথা চট্টগ্রাম থেকেই বিদেশগামী জনশক্তির সংখ্যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশী। তিনি চট্টগ্রামের মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতিকে উন্নয়নের পথে দাবিত রাখতে ভূমিকা রাখার আহবান জানান। আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক সিটি মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই জঙ্গীবাদ মুক্ত একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শত বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে বাঙালির সন্তানরা ৭১’র রণাঙ্গণে যেভাবে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, ঠিক একইভাবে আমরা এখনো যুদ্ধে আছি, তবে আজকের যুদ্ধ সশস্ত্র নয়, মেধা ও মননশীলতার। এই রাষ্ট্রে ধর্মে-ধর্মে, মানুষে-মানুষে মিলনের সংস্কৃতি বিদ্যমান। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর ঠিকানার সন্ধান দিয়েছে। আমরা যারা ৭১’র রণাঙ্গনের সৈনিক ছিলাম তারা জীবন সায়াহ্নে এসে নতুন প্রজন্মের উদ্যেশ্যে এই বিজয় মেলাকে উৎসর্গ করলাম। বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা বাঙালি জাতিকে অন্ধকার গুছিয়ে অলোর পথে যাত্রার ঠিকানা দিয়েছে। আমি মনে করি নতুন প্রজন্ম এই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও আলোকিত করার প্রেরনা যোগাবে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ ঘোষণা পাঠ করেন। বিশেষ অতিথি এসময় উপস্থিত ছিলেন এড. সুনীল কুমার সরকার, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলহাজ্ব বদিউল আলম, আহমেদুর রহমান ছিদ্দিকী, পান্টু লাল সাহা, আলী আহমেদ নাজির, এড. আবু হানিফ, জসিম উদ্দিন বাবুল, অমুল্য বড়–য়া, মুক্তিযোদ্ধা সাহাবউদ্দিন আহমেদ, মোজাফফর আহমেদ, মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মিসেস হাসিনা মহিউদ্দিন, জাতীয় পার্টি (জেপির) মহানগর আহবায়ক আজাদ দোভাষ, মহানগর আওয়ামীলীগের শফিক আদনান, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মশিউর রহমান চৌধুরী, আব্দুল আহাদ, আবু তাহের, শহিদুল আলম, শেখ শহিদুল আনোয়ার, গৌরাঙ্গ চন্দ ঘোষ, অমল মিত্র, কাজী মাহবুবুল হক চৌধুরী এটলি, মহিউদ্দিন বাচ্চু, দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, দিদারুল আলম দিদার, হেলাল উদ্দিন, এস.এম. সাঈদ সুমন, মোঃ সালাউদ্দিন, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন আবু, ইমরান আহমেদ ইমু, এ এইচ এম ফজলে রাব্বী সুজন সহ ১৫টি থানা ও ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সতঃস্ফুর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিজয় মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীগণ। আগামীকাল (১১ ডিসেম্বর ২০১৫ইং) মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মঞ্চে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এম.পি ও মাননীয় মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জনাব নাসির উদ্দিন ইউছুফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধা জেলা কমান্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ।