নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল বাংলাদেশের নিমার্তা করতে চায়

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি
নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল বাংলাদেশের নিমার্তা করতে চায় শফিউল আলম, রাউজানঃ শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার নতুন প্রজন্মকে আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের নিমার্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ভবিষ্যত প্রজণ¥কে বিশ্বমানের শিক্ষা ,বিজ্ঞান ,জ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান উেেদ্দশ্যে। একই সঙ্গে তারা যাতে উচ্চতর নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে আমাদের সেই চেষ্টাও আছে।
তিনি আজ ২১ অক্টোবর, ২০১৪ মঙ্গলবার, বিকেলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর আয়োজনে দেশ বিদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকগণের মিলনমেলায় সৈকত নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী ৯ঃয ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঋড়ৎঁস ড়হ ঝঃৎধঃবমরপ ঞবপযহড়ষড়মু (ওঋঙঝঞ ২০১৪) এর আর্ন্তজাতিক কনফারেন্সে-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দারিদ্র্যতা, অজ্ঞতা দূর করে একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সে হিসেবে আমরা নতুন প্রজন্মকে এমন ভাবে গড়ে তুলছি যাতে তারা আধুনিক, উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশের বিষয়টি ধারন করতে পারেন। আধুনিক ও অগ্রসর তথ্য প্রযুক্তি আমাদের মূল অবলম্বন। যেটিকে আমরা প্রাধাণ্য দিচ্ছি শিক্ষা সেক্টর ও অন্যান্য কার্য়ক্রমে।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমি আশাবাদী তিনদিনব্যাপী ৯ঃয ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঋড়ৎঁস ড়হ ঝঃৎধঃবমরপ ঞবপযহড়ষড়মু (ওঋঙঝঞ ২০১৪) এর এই সম্মেলন বিশ্বের সর্বশেষ তথ্য প্রযুক্তি সর্¤úকে গবেষক বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিবে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সাথে সেতুবন্ধন রচনা করে ভবিষতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠবে। দেশ-বিদেশের বিপুল বিজ্ঞানী,গবেষকগণের অংশগ্রহনে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স আয়োজনের জন্য চুয়েটকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। এখন আমরা আছি প্রযুক্তির নতুন ও উৎকর্ষতার যুগে। দেশের সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা প্রদান জরুরী হয়ে পড়েছে যাতে আমরা সবাই বিশ্বের চলমান অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তথ্য প্রযুক্তির গবেষণা সেক্টর কে আরো গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে সরকার খুব সচেষ্ট।
এ উপলক্ষে কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম ও ওঋঙঝঞ হেডকোর্য়াটারের চেয়ারম্যান উৎ. ঈ.গ. চধৎশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফারেন্স অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান এবং চুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, দেশের অত্যন্ত সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চুয়েটের অবস্থান। দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষাা ও গবেষণায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্ববহ। বিশেষ করে, দুর্যোগে ভরপর এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত শিক্ষা-গবেষণায় এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বের দাবি রাখে। আমি অত্যন্ত সময়োপযোগী এই সম্মেলন আয়োজনে চুয়েটের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় চুয়েটকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছি আমরা। ৯ঃয ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঋড়ৎঁস ড়হ ঝঃৎধঃবমরপ ঞবপযহড়ষড়মু (ওঋঙঝঞ ২০১৪) এর আর্ন্তজাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন ও এ সম্মেলন থেকে অর্জিত দিক-নিদের্শনা আমাদের প্রচেষ্টাকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
ওঋঙঝঞ হেডকোর্য়াটারের চেয়ারম্যান গৎ. ঈ.গ. চধৎশ বলেন, ওঋঙঝঞ এর উদ্যোগে সদস্যদেশসমূহে দেশী-বিদেশী গবেষকগণের উপস্থিতিতে আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স আয়োজিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অনুষ্টিত হচ্ছে এই আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স। চুয়েটের আয়োজনে এই সম্মেলন আমাদের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে আরো বেগবান করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
উক্ত কনফারেন্সে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তিন শতাধিক গবেষক-বিজ্ঞানী অংশ নিচ্ছেন। ওঋঙঝঞ বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গবেষকগণের নিকট তাঁদের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল সবার সামনে তুলে ধরার একটি মাধ্যমে হিসেবে সমাদৃত। বাংলাদেশ থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোরিয়া, রাশিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মোট ৮টি শিক্ষা ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ।