নতুন কৌশলে ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ছিনতাইকারী

প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারের পর নতুন কৌশলে ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কৌশলটি হচ্ছে, এই ছিনতাইয়ে অস্ত্রের বিপরীতে ব্যবহার করা হয় প্রতারণা। টার্গেট করা ব্যক্তিকে প্রতারণার মাধ্যমে বোকা বানিয়ে তার কাছ থেকে টাকাপয়সা কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়াই মূল লক্ষ্য।
প্রতারণা
এই কৌশলে গত এক মাসে নগরীর কদমতলী, ফ্রিপোর্ট, হালিশহর, সদরঘাট এলাকায় কমপক্ষে ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা একই চক্র ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো.আব্দুর রউফ।

তবে গত ২২ আগস্ট নগরীর সদরঘাট থানার কদমতলী মোড়ে মো.ইয়াছিন নামে একজনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার পর চক্রের দুই সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এরা হল, তানজিদ আলম প্রকাশ তুফান (২৩) এবং ইয়ার হোসেন প্রকাশ রানা (২৮)।

এছাড়া চক্রের সদস্য ইবাদ আলী ও মহাজন নামে দুজনের বিষয়ে তথ্য পেলেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

শাহ মো.আব্দুর রউফ বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণত ব্যাংক থেকে বের হওয়া লোকজনকে এই ছিনতাইকারী চক্রটি টার্গেট করে। তারপর কখনও ডলার, কখনও স্বর্ণের কয়েন-ঘড়ি কিংবা ভিন্ন কৌশলে ওই ব্যক্তিকে বোকা বানায় তারা। এর ফাঁকে সুযোগ বুঝে তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আগে থেকে দাঁড় করিয়ে রাখা সিএনজি অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়। এই ধরনের কৌশলে ছিনতাই আগে নগরীতে তেমন ঘটেনি।

সূত্রমতে, সোমবার (২২ আগস্ট) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি ইয়াছিন কদমতলী ডিটি রোডে পূবালী ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর পায়ে হেঁটে টাকাগুলো নিয়ে শুভপুর বাসস্ট্যান্ডের রাহাত সেন্টারে ইসলামী ব্যাংকের শাখায় সেগুলো জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

ইয়াছিন হেঁটে পূবালী ব্যাংক থেকে সামান্য দূরে যাওয়ার পর এক যুবক এসে তাকে সালাম দিয়ে এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখা কোথায় জানতে চান। তখন ইয়াছিন বলেন, এখানে তো সোনালী ব্যাংক নাই, ডাচ বাংলা ব্যাংক আছে। তখন ওই যুবক বললেন, আমার কাছে একশ ডলারের একটা নোট আছে, এটা কার কাছে বিক্রি করব ? তখন সেখানে আরও একজন আসেন এবং ডলারের বিষয়ে ইয়াছিনের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।

রউফ বাংলানিউজকে জানান, এসব কথা বলতে বলতে একটি অটোরিক্সা এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়। এসময় আরও তিন-চারজন লোক জড়ো হয়। ডলার ভাঙানোর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বলতে ওই যুবক ইয়াছিনের টাকার ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যায়। তবে জনতা একজনকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।

‘ঘটনাস্থলে মোট চারজন ছিল। একজন ইবাদ আলী যে ডলার ভাঙানোর কথা বলেছিল। ইয়ার হোসেন পরে এসেছিল, জনতা ধরেছে। তুফান ছিল অটোরিকশার চালক এবং মহাজন ছিল এর ভেতরে বসা। ইযার হোসেনের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা মঙ্গলবার তুফানকে শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।’

রউফ বলেন, মূলত অটোরিকশা চালক তুফানই চক্রের মূল হোতা। ছিনতাই করা দুই লাখ টাকা তার কাছেই ছিল। সেগুলো আমরা উদ্ধার করেছি। ইবাদ আলী এবং মহাজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। সিএনজি অটোরিকশাটিও আমরা এখনও জব্দ করতে ‍পারিনি।

এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া মামলায় বুধবার দুজনেক গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে ‍পাঠানো হয়।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো.আব্দুর রউফ বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা খুবই ধূর্ত। অস্ত্র নিয়ে ছিনতাই করলে যদি পুলিশের কাছে ধরা পড়ে সেক্ষেত্রে মামলা শক্ত হয়। মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে তারা মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বোকা বানিয়ে ছিনতাই করে।


আরোও সংবাদ