‘নতুন আইনে টিকবে না গ্রামীণ ব্যাংক’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:১৫ অপরাহ্ণ

সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন যে আইন করতে যাচ্ছে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচিত পরিচালক ও কর্মচারীরা।

তারা বলছেন, গ্রামীণ ব্যাংক আইন-২০১৩ বাস্তবায়ন হলে এ প্রতিষ্ঠানটি টিকবে না।

বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে ইউনূস সেন্টারে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন পাস না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামো ও নির্বাচন বিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে সরকার।

একই সঙ্গে সরকার নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানটি ‘ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’ করছে অভিযোগ করে এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত সদস্যরা।।

এ সময় বক্তব্য রাখেন পর্ষদের সদস্য তাহসিনা খাতুন।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতির সদস্যরা বলেন, “নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটি টিকবে না। আর সরকারি আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ৩ নভেম্বর তারা গ্রামীণ ব্যাংকের সব অফিসে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।”

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচলক এম শাহজাহান ও সমিতির সভাপতি মো. সামশুল আলম এ সময় বক্তব্য রাখেন।

তাহসিনা খাতুন বলেন, “সরকারের রোষানলে পড়েছে গ্রামীণ ব্যাংক। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মতো সরকার এটিও ধ্বংস করতে চায়।”

আর নতুন আইন কার্যকর হলে গ্রামীণ ব্যাংকের লাখ লাখ গ্রাহক ঢাকায় চলে আসবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তারা বলেন, “সম্প্রতি সরকার পরিচালক নির্বাচন বিধি পরিবর্তন করে একটি রাজনীতিমুখী বিধ্বংসী নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছে। এটি ৮৪ লাখ ঋণগ্রহিতা শেয়ার হোল্ডারদের ক্ষমতায়নের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাস ঘাতকতা।”

এ সময় তারা পরিচালক নির্বাচনে সরকারি ‘হস্তক্ষেপ’ বন্ধের দাবি জানান।

এম শাহজাহান বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ নই। তবে সরকার ব্যাংকটিতে যে কাঠামো নিয়ে আসছে, তাতে গ্রামীণ ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে ব্যাংকে ১৪ হাজার কোটি টাকার আমানত এবং ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আর বোর্ডে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমানতকারীরা তাদের আমানত তুলে নিতে চাইবে। এছাড়াও ঋণগ্রহিতারা আর ঋণের কিস্তি দিতে চাইবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর টিকবে না।”

সামশুল আলম বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থাকবে সার্বভৌম। কিন্তু নতুন আইনে বলা হয়েছে, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তারা সকল নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে। এতে পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্ব থাকে না।”

ব্যাংকের মালিক ও কর্মচারী সবাই এই আইনের বিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ ধরনের আইন কার্যকর হলে ব্যাংকটি ধ্বংস হয়ে যাবে।”

এ সময়ে নতুন আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ৩ নভেম্বর ব্যাংকের সব অফিসে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।