নজর কেড়েছে আম আদমি পার্টি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

ভারতের দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে চমকপ্রদ অভিষেকের মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে পুরো জাতির নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সর্বত্রই আলোচনায় এএপি।

আজ বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এএপির আবেদন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে চারদিক থেকে দলীয় তহবিলে অনুদান জমা পড়ছে। দলে দলে যোগ দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। করপোরেট জগতের বড় কর্তারা লোভনীয় চাকরি ছেড়ে ভিড়ছেন এএপিতে।

বেঙ্গালুরুভিত্তিক ভারতের বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের পর্ষদ সদস্য ভি বালাকৃষ্ণ গত মাসে তাঁর চাকরি ছেড়েছেন। তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে বিবেচনা করা হতো। গতকাল বুধবার তাঁর কাছ থেকে ঘোষণা এসেছে, এএপিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি।
হার্ভার্ড-শিক্ষিত মুম্বাইয়ে রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডের প্রধান মিরা সান্যাল এএপিতে যোগ দিতে চাকরি ছেড়েছেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর নাতি অধরেশ শাস্ত্রী পশ্চিম ভারতে অ্যাপলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তার পদ ছেড়েছেন এএপিতে যোগ দিতে।

এর পাশাপাশি এএপির তহবিলে পড়ছে অনুদান। গতকাল বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত কেবল অনলাইনে দলটি প্রায় ৩৮ লাখ রুপি সংগ্রহ করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে এক দিনে এএপির এটাই সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর বাইরে এএপিকে এক দিনে শান্তি ভূষণ নামের একজন একাই এক কোটি রুপি ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক শুভাকাঙ্ক্ষী ৫০ লাখ রুপি অনুদান দিয়েছেন।

দিল্লি নির্বাচনের আগে এএপি প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাত লাখ টাকা করে অনুদান পাচ্ছিল। লক্ষ্য অনুযায়ী ২০ কোটি রুপি সংগৃহীত তহবিলে অনুদান গ্রহণ বন্ধ করে দেয় এএপি।

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণ দেওয়ার পর গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে আবার নতুন করে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে এএপি। এরপর থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ১৭ লাখ রুপি করে সংগ্রহ করছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।

দলটির স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে বাড়ছে। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে সারা দেশ থেকে দলটিতে প্রায় তিন লাখ স্বেচ্ছাসেবক যোগ দিয়েছেন। আর এক লাখেরও বেশি মানুষ হয়েছেন দলীয় সদস্য।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের সদস্যপদ গ্রহণের ফি ১০ রুপি। ১৮ বছরের নিচে কেউ এএপির সদস্য হতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তারও এএপির সদস্য হতে পারবেন না।

এএপির এই উত্থানের বিষয়টি ভারতের জাতীয়-পর্যায়ের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতাদের দৃষ্টি এড়ায়নি। কেউ এএপির প্রশংসা করছেন। কেউ সমালোচনায় মুখর। আর কেউ-বা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

খাওয়ার পানির পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দ্বিতীয় ধাপে বিদ্যুতের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে এএপি সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে দিল্লিতে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার্য বিদ্যুতে রাজ্য সরকার ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে।

এএপির কাছ থেকে ধারণা ধার করে গতকাল মুম্বাইয়ে কংগ্রেসের সাংসদ সঞ্জয় নিরুপম বলেছেন, মহারাষ্ট্র সরকার যদি বিদ্যুতের দাম না কমায়, তবে আন্দোলন শুরু করবেন তিনি।

ভারতীয় রাজনীতির দুই প্রতাপশালী দল কংগ্রেস ও বিজেপিও এএপিকে নিয়ে বেশ চিন্তিত।