নগ্ন শরীর ঢেকে গেছে মহাকাশের রঙে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী যে দিন দিন ধ্বংসের মুখে এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরীর জন্য এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন মিস আয়ারল্যান্ডখ্যাত বাংলাদেশি কন্যা মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। সম্প্রতি ‘মহাবিশ্ব থেকে পৃথিবীর জন্য কান্না’শীর্ষক এক গণসচেনতামূলক ফটোশুট করেছেন এ তারকা।

শরীরে তার ‘গ্যালাক্সি’ আঁকা। নগ্ন শরীর ঢেকে গেছে মহাকাশের রঙে। তারসাথে আছেন আরো বেশ ক’জন। সবাই নিজেদের নগ্ন শরীরে মহাকাশ এঁকে আহ্বান করছেন পৃথিবী রক্ষার। সদ্য মিস আর্থ প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়ে তিনি শুরু করেছেন ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং অ্যাওয়ার্নেস ক্যাম্পেইন ২০১৫’।

বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তাই প্রিয়তি পৃথিবীর সকল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তার ‘ক্রাই ফ্রম গ্যালাক্সি ফর আর্থ’-থিমে। এই সাহসী ফটোশ্যুটে মডেল হয়েছেন প্রিয়তি নিজেই। ছবি তুলেছেন তার টিমেরই পল কোলে। সাজসজ্জায় ছিলেন ক্রিস্টিন এবং সাওয়ার্জ।

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রিয়তি জানালেন,‘‘মিস আর্থ’-এর রানার আপ হিসেবে আমি দায়িত্ব ও কর্তব্য জ্ঞান করি এই ভেবে যে, জলবায়ু, পরিবেশ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতাটা তৈরি করে দেয়া দরকার। তাই আমি নিজেই একটা দল গঠন করেছি, এবং বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার করে ক্যাম্পেইন করছি। ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও যাবো। তাদেরকেও এই সচেতনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাবো। তাদেরকে জীবাশ্ম মানে কয়লা, তেল এবং গ্যাস’এর ব্যবহার কমাতে বলছি। পরিবেশবাদী জিনিষ ব্যবহার করতে তাদের বারবার অনুরোধ করেছি। পাহাড়, বন ধ্বংস কিংবা না কাটার ক্যাম্পেইনও চালিয়ে যাচ্ছি, এবং যাবো।”

এছাড়াও পরিবেশ রক্ষার এই যুদ্ধে সবাইকে সামিল হওয়ারও আহ্বান জানান প্রিয়তি। এ সম্পর্কে তিনি পৃথিবীর মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘গত দেড়শো বছর ধরে আমরা আমাদের পৃথিবীর এই জলবায়ুর পরিবর্তনের মধ্যেই বসবাস করে। আমাদের এই পৃথিবীর ভারসাম্য পরিবর্তন করেছি। আমরা জীবাশ্ম মানে কয়লা, তেল, গ্যাস উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ বন পুড়িয়ে শেষ করেছি। এমন পরিবেশ বিরোধী প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং বেশিরভাগই মানুষের দ্বারা সৃষ্টি হয়। তাই আসুন আমাদের পৃথিবী আমরাই সংরক্ষণ করি এবং আপনারাও করুন।’

 

উল্লেখ্য, প্রিয়তি বাংলাদেশে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ হিসেবেই বেশী পরিচিত। কারণ গত বছর ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ খেতাব পাওয়ার পরই যে তিনি আলোচনায় আসেন! তবে সে পরিচয় বোধয় বদলে যাওয়ার সময় হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরে দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকাতে অনুষ্ঠিত ‘মিস আর্থ’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন যে তিনি! পেশায় বৈমানিক এই শিল্পী গত ১৪ বছর ধরে বাস করছেন আয়ারল্যান্ডে। কিন্তু মনেপ্রাণে পুরোদস্তুর একজন বাঙালি নারী। তার বাঙালিপনার খোঁজ পাওয়া যায় তার কর্মে। সমাজ সেবায় তার আগ্রহী মনোভাব, দরিদ্র শিশুদের সাহায্য, নিরন্ন মানুষকে অন্ন তোলে দেয়ার যে স্পৃহা কিংবা হার কাঁপুনি শীতে গরীব দুখীদের শীত বস্ত্র দেয়ার যে কর্মযজ্ঞ তারমধ্যে আছে, তা মানসিকতায় । মানুষের জন্য যার আবেগ, দরদ তেমনি এই সবুজ শ্যামল পৃথিবীর জন্যও তার সমান মায়া। আর এই মায়া থেকেই পৃথিবীকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া কিছু মানুষের হাত থেকে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার যুদ্ধে নেমেছেন এই বাঙালি নারী।


আরোও সংবাদ