নগরীর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সুজন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট , ২০১৬ সময় ০৯:২২ অপরাহ্ণ

সুজন ২মহেশখালে বাঁধের প্রভাবে নগরীর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। বৃহস্পতিবার আদর্শপাড়া, ১ নম্বর সাইট পাড়া, হিন্দুপাড়া, শেখ পাড়া, ধুপপুল, মাইজপাড়া, কোরবান আলী শাহ নগর, এছাক সওদাগর পাড়া, ঈশান মিস্ত্রীর হাট, পুরাতন ডাকঘর, পুরাতন পোর্ট মার্কেট পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীরা খোরশেদ আলম সুজনকে বলেন, মহেশখালের বাঁধের কারণে এ বছর দুই ওয়ার্ডের কোন ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। আবহাওয়া এখন শুষ্ক কিন্তু বাঁধের কারণে মহেশখালের গতিপথ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আমাদের বসতবাড়ীতে প্রতিদিনই পানি ঢুকছে। এলাকায় রান্না বান্না বন্ধ, আত্মীয় স্বজনের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার আনতেও সমস্যা হচ্ছে। জোয়ারের নোনা পানি প্রবেশের ফলে মাছের বংশ বিস্তারের পরিবর্তে মশার উর্বর প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এলাকার পুকুরগুলো। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকার ছাত্র ছাত্রী, শিশু ও বয়স্করা।

এলাকাবাসী দুর্দশার কথা শুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন, আমাদের এই প্রিয় ও পবিত্র বন্দর নগরে কৃত্রিম এক নরক যন্ত্রণা সৃষ্টির দায়ভার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহ এই বাঁধের পরিকল্পনাকারীদেরকে নিতে হবে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই মরণ ফাঁদ তুলে নেওয়ার জন্য আন্দোলন করলেও বন্দরের রহস্যজনক নীরবতা দূরভিসন্ধিমূলক।

তিনি বলেন, খালের উপর বাঁধ দেওয়া বন্দরের আইনগত এখতিয়ার নেই। এরপরও কার নির্দেশে মহেশখালের উপর সমীক্ষাবিহীন, দেশের পরিবেশ আইন বিরোধী ও অপরিকল্পিত বাঁধ দিয়ে এলাকার প্রায় ১০ লাথের বেশি জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে। এর জবাব বন্দরকে দিতে হবে।

সুজন বলেন, ১৯৫২ সালে বন্দর সম্প্রসারণের সময় ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী জনগনের পূর্ব পুরুষের বসত ভিটা ও বাড়ি বিসর্জন দিয়ে এই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। এ ধরনের অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ সত্যিই দুঃখজনক। এ অবস্থায় এলাকার আদি বাসিন্দাদেরকে কৃত্রিম দূর্ভোগে ফেলে তাদের বর্তমান বসতবাড়ি থেকে পূণরায় উচ্ছেদ করে এসব মহামূল্যবান জায়গা-জমি লিজ দিয়ে লুটেরা গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক ফায়দা হাসিলই হচ্ছে এই বাঁধের মূল উদ্দেশ্য। কাজেই মানুষের জীবন ও জমি বাঁচাতে সর্বনাশা মহেশখালের বাঁধ অপসারণে বন্দরকে বাধ্য করা হবে।

মহেশখালের কুশীলবদের বিচারের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদুল আলম সুজন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হাসান মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান, নগর যুবলীগ সদস্য আব্দুল আজিম, মো. শামসুল আলম, নগর যুবলীগ নেতা লিটন মহাজন, সচেতন নাগরিক সমাজের আহবায়ক হোসেন কোম্পানী, সদস্য সচিব মো. হাবিব শরীফ, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. মোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. কামরুল হোসেন, সদস্য শের আলী সওদাগর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।