নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার

প্রকাশ:| বুধবার, ৮ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় ঘোষণার পর বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতায় শেষ হওয়ায় নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় রাতের মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছে প্রায় দু’হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর এসব সদস্য মাঠে এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘কামারুজ্জামানের ফাঁসি বহাল রাখার আদেশ আসার পর থেকেই নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতায় শেষ হওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও থানাগুলোকে আরো সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে পুলিশের তল্লাশী চৌকি থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে টহল টিম থাকবে।’

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাঈমুল হাছান বাংলামেইলকে বলেন, ‘গত দুইদিন ধরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহলও রয়েছে। এখনো তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাদের আগের চেয়ে আরো সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

গত সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সোমবার সকালে রিভিউয়ের এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে গত ৫ মার্চ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন করেন কামারুজ্জামান। এক মাস পর গতকাল রোববার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিলো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক করে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। একই বছর ২ আগস্ট তাকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ওই বছরের ৬ জুন কামারুজ্জামান ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ওই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ নভেম্বর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

এরপর চলতি বছর আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। তবে কামারুজ্জামান আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে স্থগিত হয়ে যায় মৃত্যু পরোয়ানার কার্যকারিতা।