ধারদেনা শোধ হোক তারপর তেলের দাম কমানোর বিবেচনা

প্রকাশ:| বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও না কমানোর সিদ্ধান্তে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতোদিন ভর্তুকি দিতে গিয়ে যে ধারদেনা হয়ে গেছে সেসব পরিশোধ হওয়ার পর এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলী আযমের পৃথক দুইটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘যখন বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম অতিরিক্ত ছিল, তখন আমরা সাবসিডি (ভর্তুকি) দিয়ে ডিজেল বিক্রি করেছি। যার ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হাজার হাজার কোটি  টাকা লোন হয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে লোন নেয়া হয়েছে। যখন বিশ্ব বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছিল, তখন কিন্তু মাননীয় সংসদ সদস্যরা বলেননি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে আমরাও বাড়াই। বরং দুই এক টাকা বাড়াইলে স্ট্রাইক, ভাঙচুর অনেক কিছুই করে। এখন লোন, ট্যাক্স, ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এখন ১৫ থেকে ১৬ হাজার কোটি  টাকা পরিশোধ করতে হবে। ধারদেনা পরিশোধ করার পর তখন হয়তো কমানোর কথা বিবেচনা করা যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশ লাইন দিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছি, তাই বিনিয়োগও আসছে। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশই উপযুক্ত জায়গা। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। জাপান, চায়না, ভারত থেকে শুরু করে কোরিয়া সবাই বিনিয়োগ করছে। জাপান ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বড় বড় দেশ লাইন দিচ্ছে বিনিয়োগ করার জন্য।’

হাজী সেলিমের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না মাননীয় সংসদ সদস্য কোথায় পেলেন বিনিয়োগ হচ্ছে না। মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ডিজেলের দাম কমছে না কেন? আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে, আমরাও বাড়াই।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের কয়েক দফা দরপতনের পরও দেশের বাজারে দাম কমানো হয়নি। কিন্তু দুই দফায় বাসের ভাড়া ঠিকই বাড়ানো হয়েছে। ফলে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে।

তবে কয়েক দিন আগে জানা গিয়েছিল, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ৩ জানুয়ারি দাম কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ৬ জানুয়ারি জ্বালানি উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে দাম কমানোর বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া দেশের জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রতিবেদনের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।