ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশ:| রবিবার, ২ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:১৪ অপরাহ্ণ

চলতি সনে টেকনাফে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির অন্ত নেই। এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ সহ সব কিছু কৃষকের অনূকুলে থাকায় আগের বছরের চাইতে ফলনও ভাল হয়েছে। ফলন ভাল হওয়াতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে আরো বেশী ধান উৎপাদন হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষক পাকা ধান কেটে আটি বেধে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ মাড়াইয়ের কাজ করছেন। আবার অনেকে কোলা দিয়ে ধান পরিস্কারের কাজ করছেন।

এসময় কথা হয়, রঙ্গিখালী এলাকার কৃষক মমতাজ হোছাইনের সাথে তিনি বলেন, এ বছর সুন্দর বর্ষা ও যথাসময়ে জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশী হয়েছে। ফলন ভাল হওয়াতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী ধান উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা মনে করেন।

কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এ বছর উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে ৫হাজার ৯শ ২০ হেক্টর, হ্নীলায় ১৪শ ৮০ হেক্টর, টেকনাফ সদরে ১হাজার ৫০ হেক্টর, সাবরাংয়ে ১হাজার ৪০ হেক্টর, বাহারছড়ায় ১২শ ৮০ হেক্টর ও সেন্টমার্টিনে ৯০ হেক্টর সহ ১০হাজার ৮শ ২০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে। যা গত বছরের চেয়ে ৭শ হেক্টর বেশী জমিতে চাষ হয়েছে। তবে চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০হাজার ১শ ২০ হেক্টর। মৎস্যঘের ও লবণাক্ত জমি ধান চাষের আওতায় আসায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭শ হেক্টর বেশী জমি চাষাবাদে এসেছে বলে কৃষি অফিস সুত্র জানায়।

এ বছর ক্ষেতে ব্রি ধান-৩৩, ৩২, বি আর-১১, ব্রি ধান-৪৯, বিনা-৭, বিনা-৮, বিনা-১০ ও স্থানীয় জাত লেমব্রু, বিন্নি, লাল পাইজাম, ও কালা পাইজাম চাষ হয়েছে। তবে ব্রি-৩৩ ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বেশী করতে দেখা গেছে। উপজেলায় এবারে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ২৬হাজার ৩শ ৬০ মেট্রিক টন। সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণে কৃষকরা জমিতে চারা রোপন করে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটে। সে হিসেবে চলতি কার্তিক মাসে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছে। অন্য মৌসুমের তুলনায় এবছর কার্তিক মাসের শুরুতেই ধান কাটার রীতিমত ধুম পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আগের তুলনায় ধানের ফলন ভালই হয়েছে। এবারে তারা ধান ক্ষেতে অতিরিক্ত পার্সিং করায় কম খরচে ধানের ভাল ফলন ঘরে তুলতে পারবে। পাশাপাশি এ পদ্ধতি অনুসরণ করায় পোকা মাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বাড়তি খরচ হয়নি। এতে করে কৃষকের যেমনি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর বিনা ধান-৭ ও বিরি ধান-৩৩ সর্বোচ্চ বেশী ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে বিনা ধান-৭, ৪.৯ টন ধানে ৩.৯ টন চাল ও বিরি ধান-৩৩ প্রতি হেক্টরে ৫.৫ টন ধানে ৩.৭ টন চাল পড়ছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়। অন্যদিকে আমন মৌসুমের শেষের দিকে কৃষকরা কাটবে বি.আর-১১, বি.আর-১২ ও স্থানীয় বিনি ধান। এসব ধানের প্রজাতের ক্ষেত সুন্দর হয়েছে। যাতে অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা বেশী ধান হাসিমুখে ঘরে তুলতে পারবে।

দমদমিয়া এলাকার কৃষক বলি মাঝি ও ঠান্ডা মিয়া জানান, ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করাতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। লেদা এলাকার কৃষাণী আনোয়ারা ও ইসমত আরা জানান, সুন্দর বর্ষা ও যথাসময়ে জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশী পড়েছে। উপসহকারী কৃষি অফিসার শফিউল আলম ও শেখ জামাল উদ্দিন জানান, কৃষকরা জমিতে পার্সিং পদ্ধতি করাতে ফলন বেশী হয়েছে। কৃষি উদ্ভাবনীয় আধুনিক পদ্ধতিতে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে বিষ প্রয়োগ না করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়েছে। জানতে চাইলে, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ বলেন, চলতি সনে সারের সংকট না থাকায় কৃষকরা সুষম সারের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জমিতে সার প্রয়োগ, আবহাওয়া অনুকূল, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় পার্সিং ও লাইনিং পদ্ধতি কৃষকরা অনুসরণ করাতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী ফলন হয়েছে।

আগামীতে কৃষকদের মাঝে আরো বেশী পাসিং, লাইনিং সহ বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।