ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সঙ্গে টেন্ডারের সম্পর্ক নেই

প্রকাশ:| বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ১০:০৯ অপরাহ্ণ

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগর ভবনে দুপক্ষের সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সঙ্গে টেন্ডারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে বলেছেন, আমি ইঞ্জিনিয়ার, ভিসিসহ বিভিন্ন সমন্বয় কমিটির দফায় দফায় সভা করছিলাম। ঘটনাটি পরে জেনেছি। আমি যেটা জেনেছি, যেটা আমাকে জানানো হয়েছে। এটা স্রেফ ভুলবোঝাবুঝি। কোনো টেন্ডারের বিষয় সম্পৃক্ত নেই।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটা ও সন্ধ্যা ছয়টায় দুদফা সংঘাতের পর রাত আটটায় নগর ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি দেড় বছর। দেড় বছরে সম্ভবত ছয়-সাতশ’ কোটি টাকার টেন্ডার করেছি। কোনো দিন শিডিউল ক্রয় করা নিয়ে, টেন্ডার ড্রপিং নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়নি। আমরা ই-জিপিতে চলে গেছি। ই-টেন্ডারে চলে গেছি। আমাদের কিছু ঘাট ও হাটবাজারের টেন্ডার অফলাইনে, ম্যানুয়ালি করা হয়।

মেয়র বলেন, স্বাভাবিক কারণে অনেক বিষয় একসাথে হওয়াতে নগর ভবনে অনেক ধরনের লোকজন আসে। এখানে একটা সিনক্রিয়েট হয়েছে। হয়তো ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, গায়ে লাগছে বা পায়ে লাগছে। এখনকার জেনারেশন আমাদের আহত করে, অবাক করে। এ বয়সটা আমরাও পেরিয়ে আসছি। গায়ে লাগলে যে হাতাহাতি করতে হবে, মারামারি করতে হবে, দলভারী করতে হবে এমন কথা নেই। ঘটনা এটাই। এটা নিয়ে অন্য কিছু মনে করার কারণ নেই।

একটা বিষয় আমি স্পষ্টভাবে বলি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অনিয়ম, দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজিমুক্ত। টেন্ডারের সাথে এটির কোনো সম্পর্ক নেই। একটি মিডিয়ায় নিউজ এসেছে। আমি পুলিশ কেন এসেছে জিজ্ঞেস করেছি। পুলিশের কোনো প্রয়োজন নেই।

বাইরে তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাইরের বিষয়টা আমি জানি না।

সংঘর্ষে জড়িত দুপক্ষই মেয়রের অনুসারী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, আমার অনুসারী তো সবাই। অনুসারী বলব না। সবাই শুভাকাঙ্ক্ষী বলব, বা পরিচিত। এখানে এ ধরনের ভবিষ্যতে যাতে কিছু না হয়।

সংঘাতে ঠিকাদারদের কেউ জড়িত থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশনে এনলিস্টেড ঠিকাদার আছে। হাট-বাজার ও ঘাটে যে কেউ দরপত্র কিনতে পারে, জমা দিতে পারে। এখানে চিহ্নিত করার কিছু নেই। এখন তো সব অনলাইনে চলে গেছে।

চেরাগি ও আন্দরকিল্লা এলাকায় ইদানীং সংর্ঘের ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে মেয়র বলেন, আমার বাড়ি বলে নয়। আন্দরকিল্লা হচ্ছে হার্ট অব দ্যা সিটি। সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য কিনা বলতে পারব না, আমার বাড়ি এখানে। এখানে পাড়ার ছেলে আছে। অন্যরা আছে। লিংক আপ আছে। এখানে সবার অবাধ বিচরণ। এখানে দৈনিক আজাদীসহ অনেক সংবাদপত্র অফিস আছে। সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীরা আসে। আমি ডিফেন্ড করতেছি তা নয়। আমার ইনজেনারেল অবজারভেশন হচ্ছে, এখনকার যে প্রজন্মের যাদের বয়স ২০, ২২, ২৩ বছর তাদের মধ্যে সহনশীলতা অত্যন্ত কম।যার কারণে খুব ছোটখাটো-খু‍ঁটিনাটি ঘটনা যেগুলো আসলে কোনো বড় ঘটনা জন্ম দেওয়ার কথা নয়, সেগুলো বড় হয়ে যায়। বসা নিয়েও ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা আমাদের জন্য এলার্মিং।

নগর ভবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এখানে নিরাপত্তা রক্ষী আছে। সিসিটিভি আছে। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলি। যেদিন মৃত্যু আসবে সেদিন আসবেই।