ধর্মের উপর অবিচল থাকতে একালে তরিকত অপরিহার্য

প্রকাশ:| বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

লালদিঘির মাঠে গারাংগিয়া দরবারের তরিক্বত সম্মেলন
গারাংগিয়া দরবার কর্তৃক আয়োজিত এক তরিক্বত সম্মেলন ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বুধবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম লালদিঘির মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। তরিক্বত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শাহসুফী হযরত আলহাজ হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান হামেদী ছিদ্দিকী, শাহসুফী হযরত আলহাজ মাওলানা আনওয়ারুল হক ছিদ্দিকী, শাহসুফী হযরত আলহাজ হাফেজ মাওলানা আবদুল হাই, হযরত শাহসুফী আলহাজ মাওলানা শাহজাদা মাহমুদুল হক মজিদী। তরিক্বত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আরবী বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আহসান সায়েদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)’র চেয়ারম্যান ও এন্তেজামিয়া কমিটির আহবায়ক আলহাজ আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক আলহাজ আহমদুল ইসলাম চৌধুরী, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (এম.এ) মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান, প্রফেসর ড. মঈন উদ্দিন আহমদ খান, হযরত শাহ মাওলানা আবদুল হক হাক্কানী, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শাহজাদা মাওলানা মহিউদ্দীন, মাওলানা ইউসুফ বিন নুরী, মাওলানা ড. এনামুল হক মোজাদ্দেদী, মাওলানা শাহ আলম, মাওলানা আহমদ নজীর, মাওলানা তৈয়ব আলী মজিদী, শাহ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্স সেক্রেটারী মাওলানা আহমদ হোসেন চৌধুরী, জনাব মফিজুর রহমান, এম. এ. মতিন প্রমুখ। তরিক্বত সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও দরবারে আলিয়া গারাংগিয়া তরিক্বত সম্মেলন এন্তেজামিয়া কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আমিনুল ইসলাম। তরিক্বত সম্মেলনে বক্তাগণ বলেছেন, উগ্রপন্থা পরিহার করে ধর্মের উপর অবিচল থাকতে একালে তরিক্বত অপরিহার্য। দরবারে আলিয়া গারাংগিয়া দেশে শরীয়তের পাশাপাশি তরিক্বত তথা সুফীজমের ব্যাপক খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের একটি বড় অংশ তরিক্বত থেকে দূরে থাকায় পথভ্রষ্ট হচ্ছে। সুফীজম তথা তরিক্বত মানুষের মনে আল্লাহ ভীতি জাগরুক রাখে। তরিক্বত আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভে সহায়ক শক্তি। দেশে গারাংগিয়া দরবারে আলিয়া সেই ব্রিটিশ আমল থেকে শরীয়তের পাশাপাশি তরিক্বতের খেদমত করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কুতবুল আলম সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ মাওলানা আবদুল মজিদ (রহ.) (প্রকাশ বড় হুজুর কেবলা) ১৯২০ খৃষ্টাব্দে গারাংগিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পরের বছর ভারতের উত্তর প্রদেশের হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ হামেদ হাছন আলভী আজমগড়ী (রহ.)’র কাছে তরিক্বতে দাখিল হন। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে খেলাফত লাভ করেন। শরীয়তের পাশাপাশি তরিক্বতের খেদমতে নিজেকে আত্মনিয়োগ রাখেন। তাঁরই অনুজ হযরত শাহ মাওলানা আবদুর রশিদ হামেদী সিদ্দিকী (রহ.) (প্রকাশ ছোট হুজুর কেবলা) বড় ভ্রাতার অনুকরণে ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে আজমগড়ী হযরতের হাতে তরিক্বতে দাখিল হন এবং ১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে খেলাফত লাভ করেন। তিনিও গারাংগিয়া মাদরাসার খেদমতের পাশাপাশি তরিক্বতের খেদমত আঞ্জাম দেন। বিশেষ করে বড় ভ্রাতা ও অভিভাবক হযরত বড় হুজুর কেবলা ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দে ইন্তেকাল করলে তরিক্বতের বিশাল খেদমতে তিনি নিজেকে আত্ম নিয়োজিত রেখে ১৯৯৪ খৃষ্টাব্দে তিনিও ইন্তেকাল করেন। উভয় হুজুর মহান অলি গারাংগিয়া দরবারে চিরনিদ্রায় শায়িত। তাঁদের রেখে যাওয়া অসংখ্য তরিক্বতের জাংশন দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শতের মত খলিফা, হাজার হাজার আলেম, লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরক্ত মুরিদগণের মধ্যে অনেকে ইন্তেকাল করে গেছেন। এ দিকে দেশে সুফীজমের ব্যাপকতা আগের মত না থাকায় দেশে বাতিল ফেরকা, মাযহাবকে অস্বীকারকারীর সংখ্যা বাড়তেছে। এমনি প্রতিকূল অবস্থায় তরিক্বত তথা সুফীজমের বৃহত্তর স্বার্থে গারাংগিয়া দরবারের পীর সাহেব হযরত আলহাজ্ব শাহ মাওলানা মাহমুদুল হক মজিদী দরবারে আলিয়া গারাংগিয়ার পক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৃহত্তর পরিসরে তরিক্বত সম্মেলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তরিক্বত সম্মেলনের সমাপ্তিতে মিলাদ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্ট বাংলাদেশের সভাপতি হযরত শাহসুফী আলহাজ মাওলানা শাহজাদা মাহমুদুল হক মজিদী (ম.জি.আ)।


আরোও সংবাদ