‘ধর্মহীন শিক্ষানীতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্মাদ হিসেবে গড়ে উঠবে’

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ জুন , ২০১৬ সময় ০৮:১০ অপরাহ্ণ

শিক্ষানীতি বাতিল

বিতর্কিত ধর্মহীন শিক্ষানীতি-২০১০ ও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬ এবং পাঠ্যসূচি থেকে নাস্তিক্যবাদী-হিন্দুত্ববাদী সিলেবাস বাতিলের দাবীতে দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম শহীদ মিনার চত্বরে কেন্দ্রিয় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর উত্তর ছাত্রসেনার সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় মহিলা বিষয়ক সচিব জননেতা জাকের হোসেন, প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনার কেন্দ্রিয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা এইচ এম শহীদ উল্লাহ। আবদুল কাদের রুবেল ও রিয়াজ হোসাইনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নগর দক্ষিণ ছাত্রসেনার সভাপতি ছাত্রনেতা সৈয়দ মুহাম্মদ খোবাইব। অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর ইসলামী ফ্রন্ট নেতা নবী হোসাইন, মাওলানা নুরুল কবির রেজভী, যুবনেতা এনামুল হক, নগর ছাত্রসেনার সাবেক সভাপতি ছাত্রনেতা নুরুল্লাহ রায়হান খান, চবি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ইদ্রিচ, ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দীন। নগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- খোরশেদুল ইসলাম সুমন, গোলাম তাহের, রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল-মাসুম, মিজানুর রহমান, মাছুমুর রশীদ কাদেরী, ফোরকান কাদেরী, ফৌজুল আজিম, নাসির উদ্দিন, ফোরকান রেজা প্রমুখ।

এতে প্রধান অতিথি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের বাংলাদেশ ধর্মহীন নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নীতি-নৈতিকতাহীন উন্মাদ হিসেবে গড়ে উঠবে। ধর্মনিরপেক্ষতার অন্তরালে ধর্মবিমুখ নতুন প্রজন্ম তৈরি করাই এ শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের শিক্ষানীতি-শিক্ষা আইন জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতির সোপান হতে পারে না। প্রধান বক্তা বলেন, বর্তমান স্কুল পাঠ্যবই থেকে ইসলামী ভাবধারার লেখাসমূহ বাদ দিয়ে নাস্তিক্য ও হিন্দুত্ববাদের লেখা যুক্ত করা হয়েছে, এর মাধ্যমে শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইনের ক্ষতিকর দিক দৃশ্যমান। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে জাতিকে তাঁবেদার বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সভাপতি ফরিদুল ইসলাম। অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিক্ষার বিষয়টা সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, শিক্ষার মাধ্যমেই একজন মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা ও বিশ্বাস গড়ে ওঠে। আর বাংলাদেশে মুসলিম জাতিসত্ত্বার শত্রুরা এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই হাত দিয়েছে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় যা হচ্ছে, এক কথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মহীন নাস্তিক্য ও হিন্দুত্ববাদের দীক্ষা দিয়ে গড়ে তোলার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ঈমান-আক্বীদা ও মুসলিম চেতনাবোধ উজ্জীবিত রাখতে হলে অবশ্যই সকলকে শিক্ষার বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। সংগঠনের প্রত্যেক নেতা-কর্মী নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদেরকে অবহিত করার চেষ্টা করবেন যে, বর্তমানে স্কুল পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী ভাবধারার লেখা বাদ দিয়ে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গরুকে মায়ের সম্মান, পাঁঠাবলির নিয়ম, হিন্দুদের তীর্থস্থানের ভ্রমণ কাহিনী এবং হিন্দু রীতিনীতি, পরিভাষা ও দেব-দেবীর নামে প্রার্থনা করার বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। নামে মাত্র ধর্মশিক্ষার যে বই রাখা হয়েছে, সেখানেও ভুলে ভরা। কুরআনের আয়াত ও হাদীসের ভুল বানান ও ইসলামের ভুল নির্দেশনা। নেতৃবৃন্দ সৎ, যোগ্য ধর্মীয় জ্ঞানে পারর্দশী ব্যক্তি দিয়ে পাঠসূচি প্রণয়ন এবং পাঠ্য-পুস্তক থেকে বাদ দেওয়া নৈতিক ও ধর্মীয় জাগরণমূলক লেখাসমূহ পূণরায় সিলেবাসভূক্ত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য- বর্তমান পাঠ্যপুস্তকের বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, নবম-দশম শ্রেণির ‘ওমর ফারুক’, ‘জীবন বিনিময়’, ‘বন্দনা’, ‘বঙ্গবাণী’, ‘হামদ’ নামক ধর্মীয় ভাবধারার কবিতা। ৮ম শ্রেণি থেকে প্রার্থনা’ ও ‘বাবরের মহত্ব’ নামক কবিতা। সপ্তম শ্রেণির ‘মরু ভাস্কর’ প্রবন্ধ। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘প্রার্থনা’ কবিতা, ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’ ও ‘সততার পুরষ্কার’ নামক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ। ৫ম শ্রেণি থেকে ‘বিদায় হজ্ব’ নামক মহানবীর জীবন চরিত, ‘শিক্ষা-গুরুর মর্যাদা’ কবিতা ও ‘শহীদ তিতুমীর’ নামক জীবন চরিত। ৪র্থ শ্রেণি থেকে ‘খলীফা হযরত ওমর’, ৩য় শ্রেণি থেকে ‘খলীফা হযরত আবু বকর’ এবং ২য় শ্রেণি থেকে ‘সবাই মিলে করি কাজ’ শিরোনামে শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত বাদ দেওয়া হয়েছে।