দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন নির্মাণ শুরু

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ যুক্ত হবে নিরবিচ্ছিন্ন তথ্য সেবায়। আগামী ২০১৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ নিরবিচ্ছিন্ন এ তথ্য প্রযুক্তিতে যুক্ত হবে। এ স্টেশনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি তথ্য প্রযুক্তিতে যুক্ত হবে।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন নির্মাণ শুরুপ্রকল্প এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর এবং ভূ-মধ্যসাগরের গ্রাউন্ড লোকেশন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের কুয়াকাটা সংলগ্ন গোড়াআমখোলা পাড়ায়।

এসব তথ্য বাংলাদেশ সাবমরেনি ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সূত্রে পওয়া গেছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থিত একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত আছে। কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সংস্কার বা মেরামতের জন্য অনেক সময় তথ্যপ্রযুক্তির সেবা থেকে বঞ্চিত হয় আমাদের। ২০১৩ সালে দশ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ একর জমিতে প্রকল্প এলাকার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প এলাকা ভরাট করে সীমানা নির্মাণ করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো আর বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ৩৬০টি পাইলিং দেয়া হয়েছে। মূল ভবনের কাজ শেষ হবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে। সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণে একই সঙ্গে কাজ করছে দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, প্রকল্প এলাকায় রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকরা ড্রেজার মেশিনে বালু ভরাট, বিল্ডিং নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। স্টেশনকে ঘিরে তিন শতাধিক পরিবার আসছে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায়। নির্মাণ কাজ ঘিরে স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে কর্মব্যস্ততা। প্রকল্পটিতে বর্তমানে দুই শতাধিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। যারা বছরের একটা সময় কাজের সন্ধানে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে অবস্থান করত নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নুতন উদ্দীপনার।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে কে এন্টাপ্রাইজ লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়ছে ৬৬৮ কোটি টাকা। এ স্টেশনের সঙ্গে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ১৬টি টেলিকম কোম্পানি সংযুক্ত থাকবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের শেষের দিকে কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে সাগরে শেষ হয়েছে মেরিন সার্ভে। এর মাধ্যমে এক হাজার তিনশ গিগাবাইট ব্যান্ডইউথ ইন্টারনেটে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এছাড়া ম্যানহোল নির্মাণে ৫৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।