দ্বিতীয় দিনে নোমান-খসরুর আয়োজন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৮ জুলাই , ২০১৬ সময় ০৫:৪৮ অপরাহ্ণ

নোমান-খসরু২

নোমান-খসরুঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে প্রতিবারের মত এবারও চট্টগ্রামে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় মানুষের ঢল নেমেছে। সাধারণ নেতাকর্মী তো আছেই, নিজেদের নির্বাচনী এলাকাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও গেছেন প্রিয় নেতার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আসা নেতাকর্মীদের বুকে টেনে নিয়েছেন নোমান-খসরু দুই নেতাই। কর্মী ভালবাসার বন্ধন, আনন্দ-আড্ডা, সেলফোনে সেলফি তোলাসহ নানা আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন দুই নেতা।

নোমানের আয়োজনে ভিআইপি ব্যাংকুইট মুখর

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান প্রতিবছর ঈদের পরদিন নগরীর ভিআইপি ব্যাংকুইট হলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করেন। কিন্তু এবার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মেজবানের আয়োজন করেননি। সেজন্য ভিআইপি টাওয়ারের তৃতীয় তলায় নিজের বাসাতেই ছিল নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের আনাগোণা। সকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের ভিড় দুপুর পেরিয়েও রয়ে গেছে।

নেতাকর্মীরা তো আছেনই, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান উপাচার্য, শিক্ষক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের তালিকায় আছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের নেতাকর্মীরাও। দুপুর ১টার দিকে ভিআইপি টাওয়ারের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, টেবিলে টেবিলে চলছে আপ্যায়ন, চালের রুটি সঙ্গে গরুর মাংস, পায়েস, ফিরনি আর ঐতিহ্যবাহী সাধুর দোকানের মিষ্টি। হৈ চৈ, হাঁকডাকে মুখর পুরো বাসা।

চালের রুটির সঙ্গে খাসির মাংস দিয়ে আলাদা আয়োজন ছিল ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্যও। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই আবদুল্লাহ আল নোমানের ব্যক্তিগত শুভানুধ্যায়ী। ভাবেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নোমান তাদেরই একজন। হলে সরব উপস্থিতি ছিল তাদেরও।

সবার খাওয়াদাওয়া ঘুরে ঘুরে তদারক করেছেন আবদুল্লাহ আল নোমান নিজেই। ফাঁকে ফাঁকে আবার লাইনে ধরে নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ীরা আবদুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে করমর্দন করছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেন, নগর বিএনপির সহ সভাপতি শামসুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্করসহ সিনিয়র নেতারা ছিলেন নোমানের সঙ্গে।

এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। এসময় আমরা যারা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করি তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে।

খসরুর মেহেদিবাগের বাসভবন লোকারণ্য

সকাল থেকেই সরগরম সাবেক মন্ত্রী ও নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মেহেদিবাগের বাসভবন। ঈদের ছুটি আর যানবাহনের স্বল্পতায় পুরো নগরী ফাঁকা অথচ খসরুর বাড়ির গেটের সামনের সড়ক থেকে বাসা পর্যন্ত গাড়ির সারি। একইভাবে সকাল থেকে নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষে ঠাসা বাড়ির প্রাঙ্গণ।

শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য খসরুর বাসায় আসা দলের নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সবাই আপ্যায়িত হচ্ছেন পরটা, খাসির গোশত আর জর্দাভাত দিয়ে। টেবিলে বসা লোকজনকে কখনও নিজের হাতেই পরটা আর গোশত তুলে দিচ্ছেন আমির খসরু।

খসরুর বাসায় গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেন। সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকছেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, সহ-সভাপতি শামসুল ইসলামসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তদারকিতে আছেন বিএনপি দলীয় দুই কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি আর জেসমিনা খানমও।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলানিউজকে জানালেন, গত বছর পাঁচ হাজারের মতো লোক খাইয়েছিলাম। এই বছর সাত হাজারের একটু বেশি হবে। অনেক নেতাকর্মী জেল থেকে বের হয়েছে। তারাও এসেছে।

নেতাকর্মীদের জন্য কোন আহ্বান আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নেতাকর্মীদের বলব, আপনার চোখ-কান খোলা রাখুন। সজাগ থাকুন। দেশ এক সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। এই মুহুর্তে দেশ বাঁচানো ফরজ। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে নির্দেশনা দেন সেইভাবেই কাজ করে যেতে হবে। ’