দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের ব্যয় বেড়ে৩০০০ কোটি টাকা

প্রকাশ:| শনিবার, ১৫ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৫১ অপরাহ্ণ

[three_fourth_last]দাতার খোঁজে সময়ক্ষেপণে ১২৮ কিলোমিটার দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে। শুধু অধিগ্রহণ খাতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। শিগগিরই নির্মাণ কাজ শুরু করা না হলে প্রকল্প ব্যয় আরও অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অথচ এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কিছুই হয়নি। শুধু মাপজোখ করেই সময় পার হয়েছে। আর এ অঞ্চলের মানুষ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শুনে আসছে কয়েক যুগ ধরে। রেললাইন নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তাই ট্রেনে চড়ে পর্যটন শহর কক্সবাজার যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখনও অনেক দূরে। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বেশ জোরেশোরে শোনা গিয়েছিল। মন্ত্রী-এমপিরা এ এলাকার প্রায় সব সভা-সমাবেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে প্রকল্পের কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

৫ জানুয়ারির পর সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিলেও এ প্রকল্পের জন্য কোনো সুখবর মিলছে না। ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের সময় এ প্রকল্পের ব্যাপারে কোনো আশাবাদ শোনা যায়নি। এজন্য চট্টগ্রামবাসী হতাশ।

প্রকল্প কাজে সময়ক্ষেপণের কারণে প্রতি বছর শত কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মুজিবুর রহমান। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক কম ছিল। ওই সময় কাজ শুরু করতে পারলে ২ হাজার কোটি টাকায় কাজ শেষ করা যেত। কিন্তু অর্থের সংস্থানে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাড়ছে ব্যয়। এখনই প্রকল্প ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে। ব্যয় নির্ধারণের জন্য চলছে আরেক দফা সমীক্ষা। এরপর ব্যয়ের পরিমাণ জানা যাবে। তখন দেখা যাবে ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয় দোহাজারি-ঘুনধুম-কক্সবাজার-রেললাইন প্রকল্প। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল কক্সবাজারের ঝিলংজায় রেললাইনের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল দ্রুত রেল লাইন নির্মাণ হলে ২০১৪ সালের জুন মাসে ট্রেন চালু করা হবে। কিন্তু ২০১৪ শেষ হতে চলেছে। এখনো জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়ার কিছু হয়নি। এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীনসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে প্রকল্পে অর্থায়নের আশা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশার কোন লক্ষন দেখা যায়নি। অর্থাৎ তারা অর্থ জোগানের ব্যাপারে সরকারকে কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, রেললাইনটি নির্মিত হলে কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। বাড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা। পাল্টে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চেহারা। প্রস্তাবিত রেললাইনের মাধ্যমে যাওয়া যাবে মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্সএশিয়ান রেললাইন লিঙ্কে থাকা ২৭টি দেশে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ বিভাগ।

এ প্রকল্প হাতে নেয়ার পর ৯ বছরে ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০০১-০২ অর্থবছরে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। সে সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় ব্যয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এরপর প্রকল্প ব্যয় জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। বর্তমানে ব্যয় বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে। শিগগিরই প্রকল্প কাজ শুরু না হলে ব্যয় আরও বাড়বে। তাতে প্রকল্প কাজ শুরু করতে রেলওয়েকে দাতার সংস্থানে হিমশিম খেতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রেলওয়ের প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী জানান, প্রতি বছর নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ে। দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সমান হারে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। যত দ্রুত প্রকল্প কাজ শুরু করা যায় তত ভালো। ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যুগ যুগ ধরে ঝুলে আছে।.dpuf


আরোও সংবাদ