দোকানগুলো ফুলে ফুলে ভরে গেছে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ১২:১৩ অপরাহ্ণ

নগরীর ফুলের দোকানগুলো ফুলে ফুলে ভরে গেছে। ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুলের দোকানগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভালোবাসা দিবসে লাল গোলাপের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর বিক্রিও বেশ ভালো হয়। এর বাইরে তরুণ–তরুণীরা চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, লিলি ফুলই বেশি কিনে। বসন্ত উৎসবের জন্য তরুণীরা গাঁদা ফুলের পাশাপাশি মাথার রিংয়ের অর্ডার দিয়েছে বেশি। অন্যদিকে এবার বসন্ত উৎসবে ১৫ লাখ টাকা ও ভালোবাসা দিবসের দিন ২৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে এমন আশা করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

ফুলের দোকানে আসা কয়েকজন তরুণী জানান, ফুল এখন আর সৌখিনতার বস্তু নয়। ফুলের আদান প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ঘটে। এছাড়া নিজেকে সাজাতে ফুলের জুড়ি নেই। প্রেমিক যুগলের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি উপহারই হলো ফুল। অন্যদিকে বসন্তে নানান বয়সী মেয়ে ফুলের রিং মাথায় পরে ঘুরে বেড়ায়। এছাড়া কানে দুল, গলায় মালা ও হাতে ফুলের বাহারি অলঙ্কার পরার পাশাপাশি চুলের একপাশে তাজা ফুল ক্লিপ দিয়ে সাঁটিয়ে থাকেন তরুণীরা।

ফুল বিক্রেতারা জানান, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ভারতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন জাতের ফুল এসেছে। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে তরুণীরা ফুলের তৈরি অলঙ্কারই বেশি পছন্দ করেন। তাই দোকানগুলোতে কয়েক প্রকার ফুলের রিং ও মালা তৈরি হচ্ছে। ফুল ব্যবসায়ীরাও সারা বছর এই দিবসগুলোর অপেক্ষায় থাকেন। অপরদিকে ফুলের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে কাঁচা ফুলের ব্যবসাতে দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব বিরাজ করছে। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন উপল গুলোতে অন্যদিনগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ–তিনগুণ দামে ফুল বিক্রি করতে হয়।

নগরীর কয়েকটি ফুলের বাজারে ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে বাহারি রঙের ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। দোকানের কর্মচারীরা এসব ফুলে পানি ছিটিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আবার ফুলের গহনা, মাথার রিং ও খোঁপায় পরার নানান ধরনের ফুলের লহর তৈরি করছে। চেরাগি মোড়ের ফুল বিক্রেতা মনছুর আলম বলেন, প্লাস্টিক ফুলের আধিপত্যের কারণে কাঁচা ফুলের ব্যবসা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তবে বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসে গাঁদা এবং গোলাপ ফুলের প্রচুর চাহিদা থাকে। সাধারণ দিনে একটি লাল গোলাপ ৫ টাকায় বিক্রি করলেও ভালোবাসা দিবসে আমরা তা ১৫–২০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। এই সময়ের লাল গোলাপের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকে। দেশের বাজারে লাল, গোলাপী, হলুদ ও সাদা রঙের চীনা গোলাপ বেশি পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে চীন থেকে সরাসরি ফুল আমদানি বন্ধ রয়েছে। অধিকাংশ চীনা ফুল সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভারত হয়ে দেশের বাজারে প্রবেশ করছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসের দিন প্রতিটি দেশি গোলাপ ফুল হয় ১৫–২০ টাকা, চীনা গোলাপ ৮০–১০০ টাকা, প্রতিটি চীনা লিলি ২৫০–৩০০ টাকা, চন্দ্রমলিহ্মকা স্টিক ১০০–১৫০ টাকা, জারবেরা প্রতিটি ২০–২৫ টাকা, প্রতিটি দেশী গহ্মাডিওলাস ২০–৩০ টাকা, প্রতি বান্ডেল জিপসি ফুল ৪০–৫০ টাকা, গাঁদা ফুলের লহর ৩০–৪০ টাকা, মাথার রিং ১০০–১৫০ টাকা, গাঁজরা ফুল ৪০–৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

বসস্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে ফুলের দোকানে মাথার রিংয়ের অর্ডার দিতে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজরিন হাসপিয়া রুশমি। তিনি বলেন, বসন্ত উৎসবের জন্য রিংয়ের অর্ডার দিতে এসেছি। ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করার জন্যই আমাদের এই আয়োজন। আগামীকাল (আজ) বাসন্তী রঙের শাড়ি পরবো, সাথে ফুল ছাড়া ছাড়া উৎসব অপূর্ণ থেকে যায়, তাই শেষ মূহূর্তে রিং বানাতে দিতে এসেছি।

আদিল রাহাত নামে এক তরুণ জানান, প্রিয় মানুষের জন্য ফুল কিনতে এসেছি। তবে এ বছর ফুলের দাম একটু বেশি। উপল ছাড়া আসলে প্রিয়জনকে ফুল দেয়া হয় না। তাই এক ডজন ফুল কিনেছি, সঙ্গে অন্য উপহার তো অবশ্যই দেবো।

চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী ও চাষী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. কুতুবউদ্দিন শাকিল বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় তিনশত ছোট বড় ফুলের দোকান রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসে আমাদের বিক্রি হবে বলে আশা করি। ক্রেতাদের জন্য দামও সহনশীল রাখা হয়েছে। আশা করি এবার বসন্ত উৎসবে ১৫ লাখ টাকা ও ভালোবাসা দিবসের দিন ২৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে।

চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী ও চাষী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম বলেন, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ফুল ব্যবসায়ীরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন আমাদের দেশে ফুলের মৌসুম, তাই কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার কোথাও হচ্ছে না। দেশিয় ফুলের বাইরে বর্তমানে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে দেশের বাজারে ফুল আসছে। তুলনামূলকভাবে দাম তেমন বাড়েনি।

তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু মৌসুমী খুচরা বিক্রেতা বিভিন্ন বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে বাড়তি দামে ফুল বিক্রি করে। তবে আমাদের সমিতির তালিকাভুক্ত কোনো ফুল ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম রাখছে না।

 


আরোও সংবাদ