দেড় মাস পর বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারক

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৬ মে , ২০১৫ সময় ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিচারক শূণ্যথাকা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল বিচারক পেতে যাচ্ছে। আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিচারক নিয়োগের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে বলে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। যা ইতোমধ্যে সুপ্রীম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে অনুমোদন পেয়েছে।

ফলে চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তির একমাত্র বিচারালয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমবে। গত ১৬ এপ্রিল থেকে বিচারকশূণ্য থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। নির্ধারিত তারিখে বিচারপ্রার্থীরা দূর দূরান্ত থেকে হাজির হলেও তখন শুধুমাত্র শুনানীবিহীন মামলার তারিখ নিয়েই বাড়ী ফিরতে হতো তাদের। বিচারক শূণ্যতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা সঠিক সময়ে নিষ্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অধ্যাদেশ ২০০২-এর ২৮ ধারায় বলা আছে, ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারকার্য শুরু হইলে উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটানা চলিবে। তবে ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিচারকার্য মুলতবি রাখা প্রয়োজন। তাহা তিন কার্যদিবসের অধিক হইবে না।’

আইন অনুযায়ী ১৩৫ কার্যদিবসের (মামলার ধার্য দিন) মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মামলার নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে মামলাটি পূর্বের আদালতে ফেরত যাবে।

আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রেজা তারিক আহমেদ গত ১৫ এপ্রিল নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি হয়েছেন। এ কারণে গত ১৬ এপ্রিল থেকে ট্রাইব্যুনাল বিচারকশূন্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, ‘বিচারক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজের সম্মতি নিয়ে মামলাগুলোর তারিখ ফেলা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিয়োগ দিলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’

আদালত সূত্র জানায়, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের মা-মেয়ে খুন, পাঁচলাইশে এক নারীসহ দুই শিশু খুন, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুনের মামলাসহ ৩০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬ জেলার চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো এই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে উপ সচিব মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে সুপ্রীম কোর্টেরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন শুধুমাত্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন আকারে জানিয়ে দেয়া হবে।’

বিচার না থাকায় তেমন কোন মামলা জট হয়নি বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।