দেড় বছররেও পাওয়া গেল না জমানো টাকা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

বছরে ৫৯ হাজার ১০০ টাকার কিস্তি। ১০ বছর চালানোর পর পলিসির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দেড় বছর ধরে ধন্না দিচ্ছেন ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে।

সোমবার (৩০ এপ্রিল) নগরের কোতোয়ালি থানার চেরাগি পাহাড় মোড়ের পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিমিটেডের আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়ে এসব কথা বলেন দিলুয়ারা বেগম।

দিলুয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী আবুধাবি প্রবাসী। এক ছেলে এক মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য স্বামীর পাঠানো টাকা থেকে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা ইনসিওরেন্সের পটিয়া শাখায় বছরে ৫৯ হাজার ১০০ টাকার কিস্তি দিয়েছি। ১০ বছর চালানোর পর যখন পলিসির মেয়াদ শেষ হয় তখন লাভসহ টাকা আনতে গেলে গড়িমসি করতে থাকে। আমার কাছে সব জমা রশিদ আছে। তারপরও টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের জোনাল কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ঘোরাঘুরিতে জুতার তলা ক্ষয় হতে থাকে। এখন স্বামী দেশে এসে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। এখন আমার লাভ চাই না, আসলটাই ফেরত চাই।

তিনি বলেন, জোনাল অফিসে আমাকে জানানো হয় বিষয়টি ঢাকা অফিসে জানানো হয়েছে। পটিয়া শাখার ক্যাশিয়ার মোনসেফ আলী চৌধুরী নাকি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন।

বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এ গৃহবধূ।

এ সময় ওই কার্যালয়ে উপস্থিতি ছিলেন জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে দিলুয়ারা বেগম নামের এক গৃহবধূ আমাকে জানিয়েছেন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিমিটেডে নাকি জমানো টাকা উত্তোলনে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাই খোঁজ নিতে এসেছি। কারণ জামালখানের মতো ভিআইপি এলাকায় যদি গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে তবে এলাকাবাসী প্রতারিত হবে। এ আশঙ্কায় ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমার ছুটে আসা। এসে দেখলাম ওই গৃহবধূর অভিযোগ সঠিক। বিষয়টি আমি কোতোয়ালি থানা পুলিশকে জানাব।

এ সময় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) রাশেদুল হাসান সুমন বলেন, নগরের চেরাগিপাহাড় ও গোলপাহাড়ে আমাদের দুইটি কার্যালয় ছাড়াও পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, ফকিরহাটে একটি করে শাখা আছে। সব মিলে তিন হাজারের বেশি গ্রাহক আছেন এবং সুনামের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। পটিয়া শাখার ক্যাশিয়ার এক কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড়শ’ গ্রাহক কিছুটা অসুবিধায় পড়েছেন। বিষয়টি আমাদের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।

 


আরোও সংবাদ