দেশ ও জনগণের বিপদে সেনাবাহিনী এগিয়ে আসবে

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৫:১৯ অপরাহ্ণ

sk hahinaবাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতে দেশ ও জনগণের বিপদকালীন সময়ে এগিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও তারা এগিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের যে কোনো দুর্যোগকালীন সময়ে সেনাবাহিনী সবার আগে এগিয়ে আসে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ট্রাজেডির পর ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই সময়ে সেনাবাহিনী এগিয়ে না এলে হয়তো নির্ধারিত সময়ের আগে ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতো না। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের যেকোনো ধরনের বিপদে সেনাবাহিনী এগিয়ে আসবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষেযে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করে।

ভিশন ২১ বাস্তবায়নে ফের নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনসেবা করার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামীতে নৌকায় ভোট দেয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। ঢাকার বাইরে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করছি। এরমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে চট্টগ্রামে তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তাবায়ন করছি। এরমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। কিছু চলমান এবং কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিবেশ দূষণ রোধ, পরিকল্পিতি নগরায়নসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তাবায়ন করেছি।’

নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর দেশের অন্য জেলার চেয়ে চট্টগ্রামেই বেশি সফর করা হয়েছে। আমি যতবার চট্টগ্রামে এসেছি, ততোবার আমার নিজ জেলা গোপালগঞ্জেও যাইনি। চট্টগ্রামের প্রতি আমার বিশেষ নজর আছে।’

সরকারের ৫ বছরের উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পরের আমাদের রিজার্ভ ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নতি করেছি। চট্টগ্রামের মীরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের জিডিপি’র হার ৬ এর উপরে। দারিদ্র্যতার হার কমেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। গৃহহীন মানুষদের জন্য আশ্রয়ান প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে তথ্য কেন্দ্র করা হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছে দেশ। প্রতিটি উপজেলায় কমিউনিটি হেলথ সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।’

২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশ সমুদ্র বিজয় করবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্র জয় করেছি। ২০১৪ সালেও আমরা ভারতে বিরুদ্ধে সমুদ্র জয় করবো। এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র সৈকত হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উন্নয়নে কাজ শুরু করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি সময় সাপেক্ষ হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রস্তাব এসেছে, আমরা তা যাচাই-বাছাই করছি।’

এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে ফলক উন্মোচন করে চট্টগ্রামের ৩২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো সর্ব সাধারণের জন্য নির্মিত বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। সেখান থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে নির্মিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্বলিত মুক্তিযুদ্ধের টেরাকোটা ম্যুরালের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখান থেকে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে পৌঁছে ৩২ প্রকল্প উদ্বোধনের পর সুধী সমাবেশে যোগ দেন।
এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম খান বক্তব্য রাখেন।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, সেনাবাহিনী প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা.আফসারুল আমিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বিএসসি, চেমন আরা তৈয়ব, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

এ সুধী সমাবেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ৬ হাজার মানুষ অংশ নেন।