দেশে ৪৯ হাজার শিশুশ্রমিক ঝুঁকিপূর্ন কাজ করছে

প্রকাশ:| বুধবার, ১৮ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:০৯ অপরাহ্ণ

চকরিয়ায় বাস্তব’র “ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন: আমাদের করনীয়“ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা
দেশে ৪৯ হাজার শিশুশ্রমিক ঝুঁকিপূর্ন কাজ করছে
মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন ফারুক,চকরিয়া
চকরিয়ার আইসিডিডিআর,বি কনফারেন্স রুমে গতকাল বুধবার বাস্তব(ইনসিয়েটিভ ফর পিপল্স সেলফ ডেভেলপমেন্ট) আয়োজিত “ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন: আমাদের করনীয়“ শীর্ষক সেমিনারে শ্রমজীবি শিশুরা বলেন‘ পড়ালেখার ইচ্ছা থাকলেও অভাবের তাড়নায় অতিঝুঁকিপূর্ণ ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে’। তারমত আরো ৬ শিশু একেই অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে একজন শিশু বলেন, ‘পড়তে ইচ্ছা হয়না তাই কাজ করি’।
এই সেমিনারে অধ্যাপক পদ্ম লোচন বডুয়ার প্রবন্ধে উঠে আসে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা গুনাত্বক হারে বেড়েই চলছে। দেশে বর্তমানে ৪৯ লাখ শিশু ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। সরকার আইন প্রনয়ণপূর্বক পূনর্বাসনে বরাদ্দ দিলেও তূণমূল পর্যায়ে শিশুশ্রম রোধ করা যাচ্ছেনা জনসচেতনতার অভাব এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায়।
প্রবন্ধে আরো বলা হয়, চরম ঝুঁকিপূর্ন যেমন-জাহাজ ভাঙ্গা, বিড়ি সিগারেট তৈরী কারখানায়, কাঁচ, তাঁত, মূল্যবান পাথর ও হীরেকাটা, মৃৎশিল্প, ব্যাটারী তৈরীর কারখানা, নির্মাণ শিল্প, ইট পাথর ভা্গংা, গাড়ী মেরামত, বাস ট্রাকের চালক- হেলপার, ওয়েল্ডিং কারখানা, তামাক বাইন্ডিং ও কিউরিং-এ কাজ করায় শিশুদের ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া,ধনুষ্টংকার, শ্বাসকষ্ট, মাথা ও বুকে ব্যাথা এমনকি ক্যান্সারে ও আক্রান্ত হতে পারে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করলেই এসমস্যা কাটানো সম্ভব ।
বাস্তব‘র প্রকল্প কর্মকর্তা রনজিত চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে ও বাস্তব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দিন।বক্তব্য রাখেন এনজিও’র কো-অর্ডিনেটর ও এএসসির নির্বাহী পরিচালক মোঃ নোমান, চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া আবসিক মহিলা কলেজের প্রভাষক বুলবুল জন্নাত, কর্মনীড়ের সমন্বয়কারী শাহানা বেগম, জন্নাতুল বকেয়া রেখা, পরিবহণ শ্রমিকনেতা রফিক আহমদ, সার্ভ প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্টান কর্মকর্তাসহ এনজিও ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি।
সেমিনারে চকরিয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এই উপজেলায় পতিতাবৃত্তি, চুরি-ছিনতাই,মাদক ব্যবসা, মাছ ধরা, মাদ্রাসার জন্য চাঁদা আদায়, ড্রাইভিং ও হেলপার, ওয়েল্ডিং কারখানা, ভিক্ষাবৃত্তি ও নীল চাষ তামাকে আট থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের ব্যবহার করে কতিপয় ব্যাক্তি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। অপরাধ করাকালে গুটি কয়েক শিশু পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও
নেপথ্য গড়ফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে বিধায় শিশু শ্রম ও শিশু অপরাধ প্রবণতা না কমে উল্টো বেড়েই চলছে।