দেশের সকল সাফল্য অর্জন আওয়ামী লীগই নিশ্চিত করেছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

মহিউদ্দিন চৌধুরী
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সকল শুভ কাজ ও সফল অর্জন আওয়ামী সরকারই নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করে দ্রুত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। মিয়ানমার ও ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক আইনী লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জনসম্পদ অর্জিত হয়েছে। মাথাপিছু গড় আয় প্রায় দ্বিগুণ ১২০০ ডনারে পৌছেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে হাজার মেগাওয়ার্ডের বেশি। ৯৬ সালে আাওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে চাল রপ্তানীকারক দেশে পরিণত করেছেন। এ ধরনের বহু অর্জনে বাংলাদেশ আর গরীব দেশ নয়। শেখ হাসিনা রূপকল্প ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের এবং রূপকল্প ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টার সাথে ১৬ কোটি মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য আমাদের প্রত্যেককে সুস্পষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। জঙ্গীবাদকে সভ্যতার প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিশ্বের শান্তিকামী জনগণ জঙ্গীবাদের বিরুদ্দে জোড়ালো অবস্থান নিয়েছে। জঙ্গীবাদ নিমূর্লে বিশ্বে চূড়ান্ত লড়াই চলছে। বাংলাদেশে সেই লড়াইয়ে শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে জঙ্গীবাদী শক্তিকে নিষ্ক্রিয় ও কোণঠাসা করেছেন এবং চিরতরে নিমূল করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভঅবে প্রশংসিত হয়েছেন। এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, তিনি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমনকি প্রতিবেশি দেশের সন্ত্রাসবাদী নেতাদেরও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় ৯০ দিন নাশকতার ইন্ধন দিয়ে পেট্রোল বোমায় অসংখ্য নিরীহ নারী-পুরুষ শিশুকে হত্যা করেছেন। তাই তিনি যুদ্ধাপরাধীর মতই মানবতা বিরোধী ভয়ংকর ঘাতক। তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেগম খালেদা জিয়াকে জামায়াত ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কছেদের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেননি। তিনি যতদিন জামায়াতকে ছাড়বেন না ততদিন বাংলাদেশে তাঁর রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। তিনি নেতাকর্মীদের আত্মকেন্দ্রীক মনোভব পরিহার করে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং মুক্তির অগ্রযাত্রায় দলের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় বালাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাবেক গণপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব ইসহাক মিয়া বলেছেন, আইয়ুব খান ইয়াহিয়া, জিয়া, বেগম জিয়া আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়নি। যতদিন বাঙালি ও বাংলাদেশ থাকবে ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর মত একজন মহামানব ও বিশ্বনেতা আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা। তাই এর মৃত্যু নেই ও ক্ষয় নেই। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক কঠিন সময় পার হয়ে আজকের এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। আমাদের যারা ধাক্কা দিতে চাইবে তাদের হাত ভেঙ্গে যাবে। আওয়ামী লীগের আদর্শ, লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও দৃঢ়চেতা বিরাট কর্মী বাহিনী আছে। আওয়ামী লীগ বারবার কঠিনকে জয় করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছে, ২৩ জুন শুধু আওয়ামী লীগের নয় বাংলাদেশেরও জন্মদিন। কারণ ১৯৪৯ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের জন্ম না হলে, ১৯৭১ সালের ২৬ মাস বাংলাদেশেরও জন্ম হতো না। এটাই প্রকৃত সত্য ও ইতিহাসের শুদ্ধ পাঠ। তিনি আরো বলেন, বাঙালির ৩ হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি কখনো স্বাধীন ছিল না। আমাদের শাসন করেছে, আর্য-অনার্য-মৌর্য-মোগল-ইংরেজরা। সিরাজদৌল্লাহকে বাংলার শেষ নবাব বলা হলেও তিনি ছিলেন তুর্কী এবং ফারসী ভাষায় কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, স্বাধীন বাঙালি রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রনায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনিই এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ৭১-এর ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সভায় সমাপনী বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ বাঙালির সার্বিক মুক্তি সংগ্রামে প্রতীকি শক্তি। এই শক্তি সবসময় জনগণের সহায়ক শক্তি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদতক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নঈমউদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, ১৪ দলের শরীক দল ন্যাপ মহানগর সম্পাদক এডভোকেট আলী আহমদ নাজীর, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি এডভোকেট আবু হানিফ, জাসদ নগর সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল, সাম্যবাদী দলে অমূল্য বড়–য়া, গণ আজাদী লগের মাওলানা নজরুল ইসলাম আশরাফী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, যুবলীগ প্রেসিয়িাম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, থানা আওয়ামী লীগের পক্ষে আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের পক্ষে সাইয়িদ গোলাম হায়দার মিন্টু, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু। সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের ৬৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় কোরআন তেলাওয়াত করেন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজ্বী জহুর আহমদ। আলোচনা সভা শেষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা হারুন-উর-রশিদ। দোয়া মাহফিলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের মাতা বেগম ফাতেমা তুজ জোহরার আশু রোকমুক্তি এবং বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মঙ্গল কমান করে মোনাজাত করা হয়। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক শামসুদ্দিন হায়দার সেলিম, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি তাজের মুল্লুক, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সর্বজনাব এম.এ. রশিদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসানী, এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, হাজী জহুর আহমেদ, আবদুল আহাদ, প্রকৌশলী মানস রক্ষিত, শহীদুল আলম, জহরলাল হাজারী, কার্যনির্বাহী কাউন্সিলরবৃন্দ। এছাড়া সকাল ৬টায় দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী সহ অতিথিবৃন্দ।


আরোও সংবাদ