দেশীয় পোশাক মার খাচ্ছে

প্রকাশ:| সোমবার, ৪ মে , ২০১৫ সময় ০৭:০৬ অপরাহ্ণ

বিদেশি পোশাকের আধিক্যে বিপণনের দিক দিয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে ফ্যাশনেবল পোশাকের দেশীয় প্রস্তুতকারীরা। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চোরাই পথে পোশাক আমদানি করে অপেক্ষাকৃত কম দামে বাজারজাত করার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি, অভিযোগ দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর।

অন্যদিকে, ফ্যাশন শিল্প উদ্যোক্তা সংগঠন-এফইএবি মনে করে সরকারের উদাসীনতার সঙ্গে আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবেই ভিনদেশি পোশাকের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে ক্রেতাদের।

পোশাক শিল্পে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হলেও খোদ দেশীয় বাজার দেখাচ্ছে এর বিপরীত চিত্র। রাজধানীর গুটি কয়েক শপিং মল আর বিপণী বিতান ঘুরলেই দেখা যাবে ভারত, পাকিস্তান কিংবা চীনের পোশাকে ভর্তি দোকানপাট। উৎপাদন আর বিপণনে ভিনদেশি এসব পোশাকের ধারে কাছেও ঘেষতে পারছে না দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো।

আমদানি করা পোশাক বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছুটা কম দামে চাকচিক্যময় পোশাক কিনতেই ভিনদেশি পণ্য অগ্রাধিকার পায় ক্রেতাদের কাছে।

বিক্রেতারা আরো বলেন, ‘ক্রেতারা দেশিয় পণ্যের প্রতি কোন আগ্রহই দেখায় না। তারা সবসময় বিদেশি পোশাকের প্রতি আগ্রহী থাকে। পাকিস্তান ও ভারতের পোশাকের আগ্রহই সবচেয়ে বেশি। শো-বিজ তারকাদের দেখাদেখি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই মানুষ এখন ওইসব পোশাকের প্রতি বেশি ঝুঁকছে।’

এদিকে, দেশীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ পোশাক চোরাকারবারিদের কারণে বাজারে এক ধরণের অসম প্রতিযোগিতা চলছে, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

তারা আরো বলেন, ‘আমরা যতই আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করি না কেন, ক্রেতারা চাইছে বিদেশি পোশাক। আর দামেও কম হওয়ায় বিদেশি পোশাকই এখন আগ্রহের শীর্ষে। এই পোশাকগুলোর বেশিরভাগ আসছে চোরাই পথে, ফলে কর দিতে হচ্ছেনা তাই দামও কম।’

তবে, চলমান প্রেক্ষাপটে শুধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করতে নারাজ ফ্যাশন হাউজ মালিকদের সংগঠন-এফইএবি। সংগঠনটি এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার সঙ্গে সমানভাবে দায়ী করছে বিদেশি গণমাধ্যমের অবাধ প্রদর্শনীকেও।

বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সংস্থার সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন বিদেশি পোশাক কেনাটা আজকাল রীতি হিসেবেই দেখেন ক্রেতারা। তাই দেশীয় পোশাকের বাজার চাঙ্গা করতে ক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।


আরোও সংবাদ