দেশি মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য প্রকল্প

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

দেশি মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।দেশি মুরগি এ প্রকল্প নেয়ার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচিত অঞ্চলে ক্ষুদ্র খামারি সমবায়ের মাধ্যমে দেশি মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়ানো। এর পাশাপাশি দেশে দেশি মুরগির উৎপাদনভিত্তিক এলাকা গড়ে তোলা। এছাড়াও স্থানীয় মুরগির জেনেটিক রিসোর্স ব্যবহার করে দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন ও খামারে পরীক্ষামূলক প্রদর্শন করা। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের ওপর ২৩ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত। দেশে কৃষি অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রাণিসম্পদ খাত। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এ খাত। সার্বিক জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ২.৭৯ শতাংশ। আর এ উপখাতের শীর্ষে রয়েছে মুরগি। ৮৯ শতাংশ গ্রামীণ জনগণ বাড়ির উঠানে মুক্তভাবে মুরগি লালন-পালন করে থাকেন। প্রতি ঘরে মুরগি পালনের সংখ্যা গড়ে ৬.৮টি। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মুরগি পাওয়া যায়। যাদের চড়ে বেড়ানোর অভ্যাস রয়েছে। সীমিত জেনেটিক গঠন, অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা ও অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে এসব দেশি মুরগি খুবই অল্প সংখ্যক ডিম উৎপাদন করে থাকে। যে কারণে দেশি মুরগির বাসস্থান, খাদ্য ও ব্যবস্থাপনার জন্য খুব যত্নের প্রয়োজন। দেশি মুরগি লালন পালন করা খুবই লাভজনক। এছাড়া মুরগি অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী। কম পুষ্টিতে বেঁচে থাকতে পারে। জানা গেছে, এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হবে বিদ্যমান পোলট্রি গবেষণা পদ্ধতি শক্তিশালী করা, দেশি মুরগি পালন মডেলে উপকারিতা বাছাই-যাচাই করা, নতুন দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন করা, গ্রামীণ মহিলাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। দেশি মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য দেশের সাতটি জেলার আটটি উপজেলাকে বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ঢাকার সাভার, জয়পুরহাট সদর, খুলনার ডুমুরিয়া, ফরিদপুরের ভাংগা, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, টাঙ্গাইলের কালিহাতি ও সিরাজগঞ্জের বাগাবাড়ি। জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে এ প্রকল্প নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন সময় এ প্রকল্পের জনবলসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য পর্যাপ্ত না থাকায় এ প্রকল্পের কাজ বেশি দূর এগোয়নি। পরিকল্পনা কমিশনে এক বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, দেশি মুরগির মাংস অন্যান্য মুরগির তুলনায় অধিক সুস্বাধু। শুধু তাই নয়, ভিটামিন ও প্রোটিন অনেক বেশি। বর্তমানে দেশি মুরগির কম ডিম উৎপাদন হওয়ায় মুরগির উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। প্রথম অবস্থায় প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে। পরবর্তিতে বেশ কিছু নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। যা আগামী বুধবারের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।