দেশব্যাপী ফল আমদানীকারক, ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ও ক্যাব চট্টগ্রামের বক্তব্য

প্রকাশ:| শনিবার, ২৮ জুন , ২০১৪ সময় ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি>>
দেশব্যাপী ফল আমদানীকারক, ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ও ক্যাব চট্টগ্রামের বক্তব্য
পরীক্ষা ছাড়াই বিদেশ থেকে খাদ্য, মাংশ ও ফলমুল দেশে বাজারজাত করা হচ্ছে, খাদ্য ও ফলমুল গ্রহনে সতর্কতা ছাড়া বিকল্প নেই
সমগ্র দেশব্যাপী যখন ফরমালিন ও বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুলে বিষ মেশানোর বিরুদ্ধে প্রচন্ড জনমত তৈরী হয়েছে তখন ফল আমদানীকারক রপ্তানীকারক ও আড়তাদার সমিতি, বিভিন্ন স্থানে ফল ব্যবসায়ী সমিতি সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন বিভাগের ফরমালিন বিরোধী অভিযানকে বিভ্রান্ত ও বাধাগ্রস্থ করার জন্য সংবাদ সম্মেলনে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য পরিবেশন, বিভিন্ন মিডিয়াকে দিয়ে পরিকল্পিত সংবাদ পরিবেশন, ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র ফরমালডিহাইড মিটার(জেট-৩০০) যন্ত্রটি সঠিক নয়, বিভিন্ন ফলমন্ডিতে অবৈধ ঘর্মঘট ইত্যাদি কর্মসুচি পালন করে দেশে চলমান ফরমালিন বিরোধী জনমত ও সরকারী অভিযানকে বিভ্রান্ত ও বাধাগ্রস্থ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে খাদ্য ও ফলমুলের নামে বিষ প্রয়োগে মানুষ হত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।

২৮ জুন নগরীর চাঁন্দগাও আ/এস্থ ক্যাব বিভাগীয় কার্যালয়ে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয সভাপতি এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহ-সভাপতি আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির আঞ্চলিক সাধারন সম্পাদক লকিয়ত উল্লাহ, ক্যাব বোয়ালখালীর সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগর যুগ্ন সম্পাদক জানে আলম, ক্যাব মহানগর নেতা ঝর্না বড়–য়া, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার, নাসিমা হায়দার, রুখসানা আকতারুন্নবী, মোনায়েম বাপ্পী, কেজিএম ফারুক, ক্যাব বিভাগীয় কর্মসুচি সংগঠক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় জানানো হয় চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন স্থল বন্দর দিয়ে যে সমস্ত খাদ্য, ফল বাংলাদেশে আমদানী হচ্ছে তা কোন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই দেশের বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে। সেকারনে দেশের খাদ্য, ফলমুল এমনকি বিভিন্ন প্রাণী যা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী হচ্ছে তা কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত, রোগমুক্ত তা কোন ভাবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে না। ফলআমদানীকারকরা দাবী করে থাকেন চট্টগ্রাম বন্দর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পারমানিক শক্তি কমিশন এগুলো পরীক্ষা করে থাকেন। মুলত চট্টগ্রাম বন্দর বহিনগরে কার্গো বা জাহাজ গুলোর ভাড়া আদায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শুধুমাত্র বিদেশ থেকে আমদানীকৃত শষ্য বীজ এবং পারমানিক শক্তি কমিশন খাদ্য পণ্যের তেজস্কৃয়তা পরীক্ষা করে থাকেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা জনগনকে বিভ্রান্ত করার জন্য একবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কথা আবার পারমানিক শক্তি কমিশন ও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কথা বললেও সত্যিকার অর্থে কোন প্রকার পরীক্ষাই ছাড়াই এগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে। আর ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র ফরমালডিহাইড মিটার(জেট-৩০০) ভুল যন্ত্র নামে অবিহিত করলেও এটা আর একটি ষডযন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। কারন ব্যবসায়ীরা একবার পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ভ্রাম্যমান আদালতের লোকজন চাঁদাবাজি করছে বলেও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। যন্ত্রটি মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে প্রস্তুতকৃত এবং একই ধরনের যন্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে ফরমালিন পরীক্ষা হচ্ছে। তাদের মুল লক্ষ্য হলো ফরমালিন ও বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে ফল-মুলে বিষ দিয়ে মানুষ হত্যা করে জনগনের পকেট কাটার উৎসব অব্যাহত রাখা এবং সরকারের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা। আর একটি ফলে ফরমালিন বা ক্যামিকেল না দিলে মাসের পর মাস কিভাবে এগুলো সংরক্ষন করা হচ্ছে? জনগনের এ প্রশ্ন করা উচিত।

সভায় বলা হয় ফরমালিনের বাই প্রোডাক্ট বেশ কয়েকটি ক্যামিকেল দেশে পাওয়া যাচ্ছে যা দিয়েও ফলমুল তাজা রাখা, পাকা এবং দীর্ঘদিন গুদামজাত করা হচ্ছে। দেশের ওষধের দোকানেও এগুলো সহজলভ্য হয়ে আছে। যার কারনে ফরমালিন ও এর বাই প্রোডাক্ট বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে খাদ্য, ফলমুলকে বিষে পরিনত করার প্রবণতা বাড়ছে। এ অবস্থায় খাদ্য ও ফলমুল গ্রহনে ভোক্তাদেরকে সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। কারন বিভিন্ন ফলমুল না খেলে মানুষ মারা যাবে না। কিন্তু ফরমালিন ও বিভিন্ন ক্যামিকেল মিশ্রিত ফলমুল, খাদ্য গ্রহন করলে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হওয়া, ক্যান্সার, হ্দৃরোগ, কিডনী বিকল, হাপানী, বহুমুত্র, ডায়বেটিস, আলসার, স্তুল স্বাস্থ্য, জন্ডিসসহ মারাত্মক প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যা কিন্তু মৃত্যুর চেয়ে আরো ভয়াবহ ও যন্ত্রনাদায়ক।

সভায় আরো বলা হয় বাজারে গরু, মহিশ, ছাগল, মুরগীসহ বিভিন্ন পশু পাখি জবাই করার আগে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কর্তৃক সনদ দেয়ার বিধান ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে জবাই ও সংরক্ষনের বিধান অনুসরন করা হচ্ছে কিনা তা দেখার কোন কর্তৃপক্ষ নেই। ফলে খাদ্য, ফলমুল ও মাংশ বাজারজাতকরণে বাংলাদেশ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই বিভিন্ন দেশে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা মনিটরিং এ ভোক্তা সংগঠনুগলি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করলেও বাংলাদেশে ভোক্তা সংগঠনগুলি সরকারী ও আর্ন্তজাতিক দাতাগোষ্ঠির পৃষ্ঠপোষকতা না পাবার কারনে এ ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখাতে পারছে না। তাই সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পৃথক নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জরুরী ভাবে গঠন এ বিষয়ে ভোক্তাদের মাঝে সক্ষমতা ও ব্যাপক সচেতনতা বাড়াতে ভোক্তা সংগঠন সমুহের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করা হয়।

সভায় আরো জানানো হয় বিগত ৫ মে’১৩ইং Consumers International (CI) Asia & Pacific Region KualaLumpur Office এর প্রধান Ms. Indrani Thuraisingham, এবং Consumers International (CI) Asia & Pacific Region KualaLumpur Office Gi Policy officer Dr. Any Mitin বাংলাদেশে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ, খালাস ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টামস, বিএসটিআই, কৃষি বিভাগের সংগ নিরোধ কীটতত্ত্ব পরীক্ষাগার (কোয়ারেন্টাম) পরিদর্শন করে ফলাফল সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। সভায় আরো বলা হয় ভোক্তারা সংগঠিত ও সচেতন নয় বলে ব্যবসায়ীরা যে কোন ধরণের খাদ্য ও পণ্য এ দেশে বাজারজাত করতে পারেন। একই সাথে এগুলো দেখার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারগুলিকে সঠিক ভাবে এ বিষয়ে নজরদারি করতে ভোক্তারা বাধ্য করতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ায় একটি অন্যতম নিরাপদ খাদ্য ঝুঁকি প্রবণ দেশে পরিনত হচ্ছে। বিষয়টি এদেশে নিরাপত্তা ও পর্যটনের জন্য হুমকি। তারা আরো জানান চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন স্থল বন্দরগুলিতে যে সমস্ত খাদ্য, প্রাণী, ফলমুল ও পন্য আমদানী হচ্ছে এখানে পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। একই সাথে নগরীর বাজারগুলিতেও পশু পাখি জবাই, সংরক্ষন ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। সিটিকর্পোরেশন, বিএসটিআই, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের তদারকি, পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ একবারেই নগন্য। যে কারনে বাংলাদেশ ভেজাল, নকল ও বিষযুক্ত খাবারের অন্যতম স্বর্গভুমি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে হলে সরকার ও আর্ন্তজাতিক দাতা গোষ্ঠি যেভাবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে, তার চেয়ে বেশী মাত্রায় ভোক্তা সংগঠনগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা ও রাস্ট্রীয় সমর্থন দিতে হবে।