দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবার আহবান বেগম জিয়ায়

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা দেশবাসীকে ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে শরীক হবার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেয়া এক বিবৃতিতে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরশাসকের পথ বেছে নিবেন না। তাহলে পরিনতি স্বৈরশাসকদের মতোই হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করে সংলাপের মাধ্যমে নিদর্লীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের পথ খুলে দিন। শান্তি, স্থিতি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখুন।
একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোট নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের কারা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অবস্থা বিস্ফোরনোম্মুখ। একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করার উদ্যোগ বাসনায় সরকার দেশকে এক চরম অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিয়েছে। বার বার সংলাপ ও সমঝোতার আহবান এড়িয়ে যাচ্ছে। তড়িঘড়ি করে একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বশংবদ নির্বাচন কমিশন আগুনে ঘি ঢেলেছে। এর বিরুদ্ধে জনগণ শান্তিপুর্ণভাবে আন্দোলন ও প্রতিবাদ শুরু করলে সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনীভাবে ব্যবহার করে এবং গোয়েন্দা ও দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়ে পরিস্থিতিকে সংঘাতপূর্ণ করে তুলেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে বিরোধী দলের লোকদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা ও অগ্নি সংযোগের প্রকাশ্য উস্কানী দিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে উস্কানী দায়েরের অভিযোগে কে মামলা করবে? বেগম খালেদা জিয়া  ২১আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শান্তিপুর্ণ আন্দোলনের কর্মসুচি ঘোষণা করেন। কিন্তু যানবাহন ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সতর্ক করে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানিয়েছেন। অথচ তা বিকৃত করে তার বিরুদ্ধে উস্কানীর মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে আমাদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ পুলিশী হয়রানির কারণে নিজেদের বাসায় থাকতে পারে না। তাদের বাড়ীতে তল্লাশী চালানো হয়েছে। আমাদের যে নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্য জীবন যাপন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদেরকেই আজ নাশকতার উস্কানী দেয়ার অভিযোগে মামলার আসামী করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে সরকার দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অবরুদ্ধ কার্যালয়ে আটকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় দলের বক্তব্য প্রচার করছেন। সেই সুযোগটুকুও বন্ধ করে দিতে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবার আহবান জানিয়ে বেগম জিয়া বলেন, পুলিশের গুলি ও সুপরিকল্পিত নাশকতায় যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দল ও জোটের নেতাকর্মীদের সাহস, ঐক্য ও দৃঢ়তা নিয়ে আন্দোলনের কর্মসুচি সফল করার আহবান জানাচ্ছি।
খালেদা জিয়া বলেন, এর আগে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির চারজন সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার এমপি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, আমার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক রাষ্ট্রদুত গোলাম আকবর খন্দকার এবং আমার ব্যক্তিগত সহকারী পরিবহন শ্রমিক নেতা এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিএনপি ও ১৮ দলের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সকল মহলের দাবি ও অবস্থান উপেক্ষা করে তাদেরকে আটক রাখা হয়েছে এবং পুলিশি রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অথচ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পিয়াস করিমের বাসায় সশস্ত্র হামলা, গুলশান থানায় বোমা আক্রমণ, চট্টগ্রামে বোমাবাজী, ঢাকার আজিমপুরে গাড়ি পোড়ানোসহ বিভিন্ন ঘটনায় শাসক দল ও এর সহযোগী সংগঠনের লোকজনকে পুলিশ হাতেনাতে ধরার পরেও ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে আমার বাসায় বোমা হামলার প্রকাশ্য হুমকি দেয়া সত্বেও ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে উস্কানীর দায়ে কোনো মামলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, শাহবাগে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করে পুলিশ।