দেখা হলো ৩০ বছর পর

প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে দীর্ঘ ৩০ বছর পর হারানো দুই ভাইবোনের দেখা হয়েছে।

গত শুক্রবার মার্কিন নেভির সান ডিয়েগো মেডিকেল সেন্টারে দেখা হয় ৩০ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বড় বোন সিনডে দেখা হলো ৩০ বছর পর-Lost-Brother---sisমুরে আর ছোট ভাই রবার্ট উইলিয়ামসনের। ১৯৭০ সালে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর দুই ভাইবোন আলাদা হয়ে যান। ১৪ বছর বয়সী মুরে চলে যান মায়ের সঙ্গে; আর ছয় বছর বয়সী রবার্ট বাবার সঙ্গে থেকে যান।

মজার ব্যাপার হলো, বছরের পর বছর দুই ভাইবোন একে অন্যকে খুঁজে বেড়ালেও তাঁরা জানতে পারেননি যে তাঁরা একই সঙ্গে মার্কিন নেভিতে কাজ করছেন। দুই মাস আগে মুরে তাঁর বাবাকে ফোন দিয়ে জানতে পারেন, রবার্ট মার্কিন নেভির প্রধান অ্যাভিয়েশন অর্ডন্যান্স হিসেবে কাজ করছেন। মিলিটারি হেলথ সেন্টারের কমান্ডার মুরে তাঁর প্রধান পেটি অফিসার জেরেমি সায়মনকে তাঁর ভাইয়ের নাম দেয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি দুই ভাইবোনকে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। প্রথমবার ফোনালাপের পর তাঁরা ফোনে আরও বেশ কয়েকবার পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করে কথা বলেন।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার হারিয়ে যাওয়া বোন মুরের সঙ্গে দেখা হলে রবার্ট তাঁকে নেভির সম্মানসূচক স্যালুট করেন। এরপর তাঁরা একে অন্যকে আবেগে জড়িয়ে ধরেন। মুরে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফেসবুকে অনেকবার ছোট ভাইকে খুঁজেও পাইনি। সেখানে হাজার হাজার রবার্ট উইলিয়াম আছে, এমনকি আমি জানতাম না উইলিয়াম দেখতে কেমন হয়েছে।’ এদিকে মায়ের সঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর মুরে তাঁর মায়ের উপাধি ব্যবহার করায় রবার্টও খোঁজাখুঁজি করে বোনের সন্ধান পাননি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বোনের দেখা পেয়ে রবার্ট বলেন, ‘কখনোই হাল ছেড়ে দেয়া উচিত নয়।’
৩০ বছর দূরে থাকার পরও তাঁরা একই ধরনের খাবার আর টিভি অনুষ্ঠান পছন্দ করেন।
মিলিটারি হেলথ সেন্টারের প্রধান সায়মন ভাইবোনের এই পুনর্মিলনকে তাঁর চাকরিজীবনের ‘গৌরবময় মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে মুরে ও রবার্ট একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। মুরের সঙ্গে ছুটি কাটাতে রবার্ট ও তাঁর স্ত্রী সান ডিয়েগো যাচ্ছেন।