“দূর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এখনই সময় রুখে দাঁড়াবার”

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১২ আগস্ট , ২০১৮ সময় ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বাঙালিদের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে পাওয়া যাবে অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। বাঙালি জাতি কখনো কারো কাছে মাথা নত করে নাই। বাঙালি জাতি তার শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছে। এই বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নাই। শহীদ তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রেরণা। সাধারণ একটি বাঁশের কেল্লা বানিয়ে সাধারণ কৃষকদের সঙ্গী করে সাম্রাজ্যবাদি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শহীদ তিতুমীর বিদ্রোহ ও বাঙালির স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শহীদ তিতুমীরের এই দুঃসাহসিক মানসিকতা নিয়ে তখনকার সময়ে অনেক সমালোচনা হয়। তাদের ভাষ্য ছিল, সাধারণ একটি বাঁশের কেল্লা এবং সাধারণ কৃষকদের নিয়ে শক্তিশালী ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া নিতান্তই বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।

শহীদ তিতুমীর তার কৃষকসেনাদের বলেছিলেন, “ভাই সব, একটু পরেই ইংরেজ বাহিনী আমাদের কেল্লা আক্রমণ করবে। লড়াইতে হার-জিত আছেই, এতে আমাদের ভয় পেলে চলবে না। দেশের জন্য শহীদ হওয়ার মর্যাদা অনেক। তবে এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ একদিন দেশ উদ্ধার করবে। আমরা যে লড়াই শুরু করলাম, এই পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।” শহীদ তিতুমীর যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও পিছু হটেন নাই। শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ইংরেজ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই করে শহীদ হন। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রথম অনুপ্রেরণা, প্রথম পথপ্রদর্শক।

সেই সংগ্রামী অনুপ্রেরণা থেকেই আমরা ১৯৫২ সালে পাক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করে রাজপথে বুকের রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষা রক্ষা করি। এবং ১৯৭১ সালে তাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য সামরিক যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের বুকের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে মাত্র ৯ মাসে দেশ স্বাধীন করি। তখনকার সময়ে পাক হানাদার বাহিনী ছিল পৃথিবীর অন্যতম শক্তিধর আর্মি। তাদের বিরুদ্ধে নিরীহ বাঙালির মাত্র ৯ মাসে যুদ্ধে জয় লাভ ছিল সারা বিশ্বের কাছে অবাক বিস্ময়!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছিলেন “সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।” “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”

মহান নেতার কথাই সত্যি হয়েছিল, এই বাঙালি জাতিকে শক্তিশালী পাক হানাদার বাহিনী দাবিয়ে রাখতে পারে নাই। বাঙালি সেইদিন ভয় পায় নাই, মাথা উঁচু করে বলেছিল “জয় বাংলা”। যার হাতে যাই ছিল, তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে শক্রর মোকাবিলা করেছিল। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করে বীর বাঙালি ঘরে ফিরেছিল।

বর্তমানে আমরা কি আমাদের অতীতের গৌরবের সংগ্রামী সোনালী ইতিহাস ভুলে যেতে বসেছি? আমরা কি ভুলে যাচ্ছি আমাদের অতীতের সেই গৌরবের আত্মত্যাগ ও অর্জনের কথা? আমরা কি ভুলে যাচ্ছি তিতুমীর, শের-ই-বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা? তবে কেন পেশীশক্তির কাছে আমাদের মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছি? যে দাসত্ব থেকে আমরা মুক্ত হয়ে ছিলাম, তবে কেন আবার সেই দাসত্ব গ্রহণ করছি?

আমরা নির্দিষ্ট শ্রেণীর শাসকগোষ্ঠী ও কিছু সংখ্যক পুঁজিবাদির কাছে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে আছি। তাদের ইচ্ছে মাফিক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র। স্বাধীন দেশে বসবাস করছি কিন্তু স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছি না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিন্তু গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও কোন গণতন্ত্র নেই। কেউ নিজ দলের বিপক্ষে যৌক্তিক সমালোচনা করলে, তাকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাতীয় সংসদে পার্লামেন্ট মেম্বারদের পর্যন্ত নিজেস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। নিজ দলের বিপক্ষে মত প্রকাশ করলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়। তাহলে তাদের থেকে কিভাবে আমরা স্বাধীনতার সুফল ও গণতন্ত্রের সঠিক ব্যবহার প্রত্যাশা করি?

যখন যেই দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে, তাদের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে পুরো দেশটা জিম্মি হয়ে যায়। তাদের ইশারায় পরিচালিত হয় দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র। আমরা তখন তাদের কাছে অসহায়ের মতো অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকি। কেউ কেউ স্বার্থ হাসিল করতে সুবিধাবাদির মতো তাদের তৈলমর্দন করি। তাদের পেশীশক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়ে আমরা নিবর দর্শকের ভূমিকা পালন করি। অন্যায় ও অবিচারে তাদের সামনে মাথা তুলে প্রতিবাদ করি না। সকল অন্যায় ও অবিচার মানিয়ে নেওয়া আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

দেশে উন্নয়নের নামে যে পরিমাণে দূর্নীতি হয়, তার সিকি পরিমাণ আমরা অবগত নই। পুঁজিবাদিরা যে পরিমাণ রাজস্ব কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে, তার পরিমাণ আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারবো না। সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে দৈনিক ঘুষ বাণিজ্যের লেনদেনের পরিমাণ জানলে পিলে চমকে উঠতে হবে। আমরা সাধারণ জনগণ ঠিক মতোই সব ধরণের রাজস্ব কর দিয়ে যাই। আমরাই বাধ্য হয়ে কর্তাদের ঘুষ দেই কারণ এটা ছাড়া কোন কাজ হয় না। আমাদের টাকায় দেশ চলে কিন্তু আমরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।

১/১১ এর সময় দেশে একটি অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল। তখন আমরা দেখেছিলাম, রাজনৈতিক নেতা ও পুঁজিবাদিদের পাষাণ স্তুপের মতো অবৈধ সম্পদ। এসব অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে যখন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছিল। অনেকেই কোটি কোটি টাকার বস্তা ও কোটি টাকার গাড়ি বেওয়ারিশের মতো ডাস্টবিনে ও রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। গাঁ ঢাকা দিতে অনেকেই নিজের আলিশান বাড়ি ছেড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিংবা লুকিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়ে ছিল। তখন সরকারি কর্তাদের কেউ খুশি হয়ে বকশিশ দিতে চাইলে, তারা সেটা ফিরিয়ে দিত। উল্টো বলতো, আরেহ্ ভাই কি করছেন, আপনি আমার চাকুরি খাবেন নাকি। এখান থেকে আমরা শিক্ষা পাই, সরকারের যদি ইচ্ছে থাকে, তাহলে দেশে